সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:৫২:৪২ পিএম

আজো অজানা কার গুলিতে সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যু

জাতীয় | শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৫৪:৩২ পিএম

এক বছর কেটে গেলেও আজো অজানা কার গুলিতে প্রাণ হারালেন দৈনিক সমকালে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল। ঘটনার সময় ব্যবহৃত কিছু অবৈধ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। খোঁজ মেলেনি শিমুলের ব্যবহৃত ক্যামেরা ও মোবাইলের।

সে সময় ঘটনাস্থলের কাছে শটগান হাতে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছবি প্রকাশ পায়। শিমুল খুনের ঘটনায় অভিযোগে গ্রেপ্তারও হন তিনি। এক বছরেও চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচার শুরু না হওয়ায় সঠিক বিচার নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন নিহত সাংবাদিকের স্বজনরা।

শিমুলের স্বজনরা জানান, মামলাটি প্রথম থেকেই দ্রুত বিচার আইনে নেয়ার দাবি থাকলেও অদৃশ্য কারণে সাধারণ আদালতেই রয়ে গেছে। স্বজন হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তারা। কিন্তু মামলার যে ধীরগতি তাতে তাদের জীবদ্দশায় মামলার রায় দেখে যেতে পারবেন কিনা সেটি নিয়ে তারা সন্দিহান। তবে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রীকে চাকরি দেয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।

শিমুল হত্যা মামলার আইনজীবী মো. আবুল কাশেম মিয়ার দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র দিয়েই শিমুলকে গুলি করা হয়েছে। এখানে অভিযুক্তদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জামিনে মুক্ত শিমুল হত্যা মামলার আসামি শাহেব আলী জানান, মেয়রের বাড়িতে হামলার সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে সাংবাদিক শিমুলসহ আমরা ৪ জন আহত হয়েছিলাম। আমাদের শরীরে এখনও স্প্লিন্টার রয়েছে। আমাদের শরীরে থাকা স্প্লিন্টার আর শিমুলের মাথা থেকে পাওয়া স্প্লিন্টার মিলালেই প্রমাণিত হবে কার গুলিতে সাংবাদিক শিমুলের মৃত্যু হয়েছে।

শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুমারসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকটি অস্ত্র ব্যবহৃত হলেও পুলিশ বৈধ ও অবৈধ মিলে মাত্র ২টি অস্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছে। আর কোনো অস্ত্র পুলিশ এক বছরেও উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে জামিনে মুক্ত মেয়রের ভাই হাফিজুল হক পিন্টু জানান, ঢাকায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরির ব্যালিস্টিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শিমুলের মাথায় পাওয়া সিসার বলের ওজন ০.৫০ গ্রাম। আর মিরুর শটগানের কার্তুজের ওজন ০.৫৩ গ্রাম। তবে দুটো সিসার সাদৃশ্য রয়েছে। আর মিরুর ব্যবহৃত শটগানের সঙ্গে পাঠানো জব্দকৃত বুলেট এই শটগান থেকে ছোড়া হয়নি। তাহলে পুলিশ কিসের ভিত্তিতে মিথ্যা চার্জশিট দিলো।

তিনি আরও বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষের ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে পুলিশ মামলার এজাহারের বাইরের ১৮ আসামিকে শনাক্ত করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে। তাহলে ওই ভিডিও থেকে কেন মেয়রের বাড়িতে হামলাকারীরা শনাক্ত হলো না এবং মামলাটি ফাইনাল দেয়া হলো।

এসব বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, ঘটনার পরই মেয়র মিরুর লাইসেন্সকৃত শটগান ও গুলি জব্দ এবং তার ভাই মিন্টুর তথ্যমতে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। এর বাইরে আর কোনো অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা তা তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, শিমুলের স্ত্রী ও বিজয়ের বাবার মামলায় ২৯ আসামি জামিনে রয়েছেন, পলাতক রয়েছেন আটজন। পুলিশ এজাহারভুক্ত ১৮ জনসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুইটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধি শিমুল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে পরদিন ৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহজাদপুরসহ সারাদেশ। পরপর ৩টি পক্ষ থেকে মামলাও হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন