রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ০৭:০০:৩৯ এএম

শিক্ষক কর্তৃক সহকর্মীকে ধর্ষণ চেষ্টা : মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন | জেলার খবর | দিনাজপুর | সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:২৯:০৯ এএম

দিনাজপুর সরকারি কলেজে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে তার কোচিংয়ের এক শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ তোলপাড় উত্তরের জেলা দিনাজপুর। প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে সচেতন এলাকাবাসী। পাশাপাশি সেই লম্পট শিক্ষক ও তার সহযোগীদের কঠোর সাজার দাবিতে ফেটে পড়েছে জনতা।

অভিযুক্তদের সাথে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের সুসম্পর্ক থাকায় ঘটনাটি নিয়ে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন উক্ত ভুক্তভোগীর পিতা শাওন আমিন। এ বিষয়ে উক্ত ভুক্তভোগী ছাত্রী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে- ঊনিশ বছর বয়েসি ওই ছাত্রী দিনাজপুর সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারে পড়ান। কোচিং সেন্টারটি গণেশতলাস্থ রায়সাহেব বাড়ি মন্দিরের পাশে অবস্থিত। উক্ত কোচিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী এবং শিক্ষক অভিযুক্ত অহি ভূষণ চক্রবর্তী ওরফে টিংকু (৪২) গত ২.২.২০১৮ইং তারিখে ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণীকে মোবাইল ফোনে ডেকে লিলির মোড়ে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে। তরুণী সরলমনে তার কোচিং সেন্টার অধ্যক্ষের সাথে দেখা করতে বিকেল ৪টার দিকে সেখানে যায়। পরে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দোহাই দিয়ে টিংকু তাকে সেখান থেকে বালুয়াডাঙ্গা মহল্লায় একটি নির্জনস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে অপর অভিযুক্ত স্বাধীন (৪৫) নামক টিংকুর আরেক বন্ধুর দেখা মেলে।

তখন তরুণী কেন তাকে এখানে ডেকে আনা হয়েছে প্রশ্ন করলে অভিযুক্তরা কোন কারন না দেখিয়ে তার সাথে অশোভন আচরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে দু’জনই ওই তরুণীর শরীরে অশ্লীল স্পর্শের পাশাপাশি তাকে উক্ত নির্জনস্থানে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তরুণী তাদের কাছে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করে কান্নাকাটি করেন, কিন্তু তবুও তাদের মন গলেনি। উল্টো ঘটনাটি প্রকাশ করলে তার মুখে এসিড মারবে বলে হুমকি দেয়। হঠাৎ সুযোগ পেয়ে তরুণী তাদের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে মূল সড়কে চলে আসতে সক্ষম হন এবং একটি অটোরিক্সা ধরে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে এই ঘৃণ্য ঘটনাটি তুলে ধরেন।

এই ঘটনার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণীর পিতা কর্মসূত্রে চট্টগ্রাম নিবাসী শাওন আমিন যিনি দিনাজপুরের এসপির পরিচিত দাবি করে এরই মধ্যে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ওই চিঠিতে তিনি এসপিকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার অফিসে আত্মগোপণ করে থাকা ওই লম্পট শিক্ষক টিংকুকে যেন অচিরেই গ্রেফতার করা হয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা মনোজ ওই অভিযুক্তদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে। সেই সাথে থানা মামলা নিতে গড়িমসি করছে। এমনকি দায়েরকৃত এজাহারের কপিতেও কোনরূপ সিল ও স্বাক্ষর দেননি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই মুহুর্তে ব্যস্ত আছেন বলে প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন