মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ ১১:২৮:৩৩ পিএম

দাম কমলো বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের

জাতীয় | সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:৪৫:২৫ পিএম

সর্বাধিক বিক্রিত বসুন্ধরা এলপি গ্যাস এখন গ্রামে-গঞ্জেও রান্নার কাজে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসকে জনপ্রিয় করে তোলার প্রতিশ্রুতি থেকে ভোক্তা সুবিধার কথা চিন্তা করে সম্প্রতি পণ্যটির দাম আরেক দফা কমিয়েছে বসুন্ধরা।

এর আগে সর্বশেষ দাম কমানো হয়েছিল গত ডিসেম্বরে। গতকাল থেকে বসুন্ধরার ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ২০ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৫০ টাকা ও ৪৫ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৭৫ টাকা করে কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং এম এম জসীম উদ্দীন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে প্রাধান্য বিস্তার করছে বসুন্ধরা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট শেয়ার ৩০ শতাংশেরও বেশি। সাম্প্রতিককালে অনেক কোম্পানি এলপি গ্যাসের বাজারে ঢুকেছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে বসুন্ধরা তার অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে এ জন্য যে, প্রতিষ্ঠানটি ন্যায্যমূল্যে পণ্যটি বিক্রি করে আসছে। আমাদের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষেরও একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে, গত ৪-৫ বছর ধরে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সরকার এলপি গ্যাসকে উৎসাহিত করছে। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ৮ লাখ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এখন নীতি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে গৃহস্থালির ব্যবহারে এলপি গ্যাসকে উৎসাহিত করা। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বসুন্ধরা গ্রুপ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।

’ গত এক বছর ধরে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বসুন্ধরা ৫০-৬০ টাকা কমে এলপি গ্যাস বিক্রি করেছে জানিয়ে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের হেড অব মার্কেটিং বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বল্প মুনাফা করে আরও কিছুটা দাম কমানো সম্ভব। সে কারণে আরেক দফা দাম কমানো হলো। এর আগে দাম কমানো হয়েছিল গত ৫ ডিসেম্বর।’ বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সরকারের জ্বালানিবান্ধব নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করছে।

দেশে এখন প্রতি মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এলপি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বরাবরই সরকারের কাছে একটি দাবি করে আসছে, তা হলো— সিলিন্ডার তৈরির কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়া। গ্যাস সিলিন্ডার আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলেও সিলিন্ডারের কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানো হয়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকার কথা থাকলেও রয়েছে কেবল ৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে গ্রামেগঞ্জে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে পারলে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার কমবে এবং বনভূমি রক্ষা পাবে। আর এ কাজটি করতেই এলপি গ্যাসের দাম কমিয়ে এক ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা।

এলপি গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি অপারেটরদের সব সময়ই এক ধরনের নৈতিক চাপ দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও একই কথা বলেছেন। তবে এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এলপি গ্যাস অন্যান্য তরল জ্বালানির মতো নয়। শিল্প পণ্য হিসেবে এলপি গ্যাসের ব্যবহার ১০ শতাংশ নয়।

মূলত কাঁচামালের দরের ওপরই ভোক্তামূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। এখানে সরকারের কোনো ভর্তুকি নেই। এটা সম্পূর্ণরূপে একটি ভোগ্যপণ্য। এর দাম কেরোসিন বা ডিজেলের মতো বেঁধে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ খাতের উদ্যোক্তারা সবসময় চেষ্টা করছেন সরকারের নীতিকে সমর্থন দিয়ে দামটা যতটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন