শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৫৫:১৪ পিএম

হত্যা মামলায় ৪ যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আইন আদালত | মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৩:৩১:৫০ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে মালিককে হত্যা ও চালককে জখম করে সিএনজি অটোরিকশা ডাকাতির দায়ে চার যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ দণ্ড দেন।

রায়ে একই সঙ্গে আসামিদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অপর একটি ধারায় ১০ বছর করে সশ্রম কারদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কালিয়াকুড়ি গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৭), গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজারের গণি ওরফে সুরুজ মিয়ার ছেলে শওকত (২৮), একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাস্টারবাড়ি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মিজান (২৯) ও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে শাহীন মিয়া (২৯)। রায়ে মামলার অপর দুই আসামি শিশির সংমা (২৮) ও খোরশেদ আলম নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি খোকা মিয়ার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে ভাড়া করে শ্রীপুর পৌরসভার মাধোখোলা খাসপাড়া এলাকায় আসে কামরুল ইসলাম। দূরের রাস্তা হওয়ায় চালক জসিম অটোরিকশার মালিক খোকা মিয়াকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। অটোরিকশাটি মাধোখোলা এলাকার গহীন জঙ্গলে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কামরুলের সহযোগীরা অটোরিকশাটি থামিয়ে খোকা মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে। চালক জসিমকে গলা কাটার সময় আহত অবস্থায় সে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে খুনিরা অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোকা মিয়ার (৪০) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এসআই আবদুস সালাম বাদী হয়ে ওইদিন রাতে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় কামরুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে আরও তিনজনের সম্পৃক্ততা পায়। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৫ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে গাজীপুর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহমেদ এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মুবিন খান ও অ্যাডভোকেট নাসরিন আক্তার মায়া মামলাটি পরিচালনা করেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন