সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০৫:৩০:৫৮ পিএম

পর্যটন হতে পারে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের সূত্র: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৯:০৩:১৯ পিএম

পর্যটনকে কেন্দ্র করে মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী পর্যটন একটি দ্রুত বিকাশমান খাত যা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পর্যটন শিল্প অন্যতম ক্ষেত্র যেখানে একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।’

মঙ্গলবার সকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসির পর্যটন মন্ত্রীদের দশম ইসলামিক সম্মেলনের (আইসিটিএম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওআইসিভুক্ত দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আগামীতে বৃহত্তর পরিসরে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়াতে এই সম্মেলনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরস্পরের কাছাকাছি আসা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন নতুন সুযোগ ও দিগন্ত উন্মোচন করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে, ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় নিজেদের মানোন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামালের সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওসাইমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এস এম গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।

এছাড়া, নাইজারের পর্যটন মন্ত্রী এবং সম্মেলনের বিদায়ী চেয়ারপারসন আহমেদ বথু এবং জাতিসংঘোর ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (ইউএনডব্লিউটিও) এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৩০টি রাষ্ট্রের ১৫ জন পর্যটন মন্ত্রী এবং প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের রীতি অনুযায়ী নাইজারের পর্যটন মন্ত্রী এবং সম্মেলনের বিদায়ী চেয়ারপারসন আহমেদ বথু বক্তৃতার পরপরই পরবর্তী দুই বছরের জন্য আইসিটিএম’র চেয়ারপার্সনশিপ বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামালের কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক অর্থনীতি একটা নতুন বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এটির বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং সারাবিশ্বের মুসলমানদের দ্বারাই এটি পরিচালিত হবে। ইসলামিক পণ্য ও সেবার বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং একটি বিশাল ভোক্তা থাকার কারণে, বিশ্বাস-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছেও এসব পণ্য ও সেবা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

তিনি এসময় ইসলামিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এসময় বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবৎ উদ্বাস্তু সমস্যা মোকাবেলা করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত বিপুলসংখ্যক উদ্বাস্তু সম্প্রতি আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। নিজ বাসভূমিতে জাতিগত নিধনের ভয়াবহ নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে বাংলাদেশ অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে।

হালাল খাদ্য, ইসলামিক অর্থনীতি, হালাল ঔষধ এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি ইসলামিক অর্থনীতির বর্ধিষ্ণু খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতগুলোর উন্নয়নে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন