শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ১২:২১:০৮ এএম

উল্টো ভারতের কাছে ট্রানজিট সুবিধা চাইছে বাংলাদেশ!

আন্তর্জাতিক | বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৪৯:১৫ এএম

এত দিন বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে পণ্য পরিবহনে ভারত ট্রানজিট সুবিধা চেয়ে এলেও এবার উল্টো ভারতের কাছে ওই সুবিধা চাইতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে রপ্তানিপণ্য পরিবহনের জন্য এই সুবিধা চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে কলকাতা বিমানবন্দরে পণ্য নেওয়া হবে। এরপর দেশটির এয়ার কার্গো ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় পণ্য পাঠানো হবে। মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ট্রানজিট সুবিধা চাওয়ার এ প্রস্তাবটি তোলা হবে।

দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু এবং ভারতের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য সচিব মিজ রিতা তিওতিয়া নেতৃত্ব দেবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের একটি শিল্পগ্রুপ কলকাতা এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ চাইছে। সে অনুযায়ী ভারতের কাছে ট্রানজিট সুবিধায় কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ চাওয়া হবে।

দুই দেশের মধ্যে যে ট্রানজিট সম্পর্ক রয়েছে সেখানে ভারত বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে (সেভেন সিস্টার্স) এবং বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি নিয়েই ভেবেছে। এবার নেপাল ও ভুটানের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোয় পণ্য পরিবহনের সুযোগ নিতে চাইছে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী এক দেশ আরেক দেশের মধ্য দিয়ে জল, স্থল ও রেলপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য ট্রানজিটের সুবিধা নিচ্ছে। ওই চুক্তির ৮ ধারা অনুযায়ী ভারত এরই মধ্যে জলপথে (প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড) ট্রানজিট সুযোগ নিচ্ছে।

এ ছাড়া পাশের দেশটি একইভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ চাইছে। বাংলাদেশও তেমনি তাদের কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের সুযোগ চাইবে। এটা দুই দেশের ট্রানজিট সম্পর্কে একটা ভারসাম্য রক্ষা করবে। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও সহজ হবে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এয়ার কার্গোতে অপ্রতুল জায়গার কারণে খুব বেশি পণ্য পরিবহন করা যায় না। আবার নিরাপত্তা ত্রুটির অজুহাতে অস্ট্রেলিয়াসহ বেশকিছু দেশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঢাকা থেকে সরাসরি আকাশপথে পণ্য পরিবহনেও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশে পরীক্ষার পর পণ্য ঢোকার অনুমতি মিলছে।

এ অবস্থায় কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভারতে ট্রানজিট সুবিধায় কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে একটি শিল্পগ্রুপের আবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের মতামত নিয়ে ২৮ জানুয়ারি বৈঠক আহ্বান করা হয়। ওই সভায় ভারতে ট্রানজিট সুবিধা চাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে। এর পরই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আরও যেসব ইস্যুতে আলোচনা হবে সেগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত স্থল শুল্ক বন্দরসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি; বর্ডার হাটের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও নতুন বর্ডার হাট স্থাপন; বাংলাদেশের বিএসটিআইর সার্টিফিকেটের স্বীকৃতি প্রদান; ভারত কর্তৃক কিছু বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ; পণ্য আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত বাণিজ্য বিরোধ ও জটিলতা দূর করা; স্থল শুল্ক বন্দরের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক পণ্য আমদানির সুযোগ প্রদান; সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণ করা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় চিনি রপ্তানিসংক্রান্ত ভারতীয় প্রস্তাব।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন