বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৯:২৮:৪০ পিএম

প্রতিযোগিতায় কৌশলী খালেদা

রাজনীতি | বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:০৬:২২ পিএম

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে তাতে সব দলের প্রতিযোগিতামূলক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ইতোমধ্যে সিলেট সফর করে তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হবে। রায়কে সামনে রেখে তিনিও সিলেট সফর করে এসেছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের সিলেট সফর রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও এক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটা কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের সিলেট সফর ছিল শুধু মাত্র দুই সাধকের মাজার জিয়ারত, কোনো রাজনীতি ছিল না।

দলীয় সূত্র জানায়, দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। সেদিন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায়ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এমন ইঙ্গিত দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন, আপনাদের সঙ্গে আছি।’ তার এই বক্তব্যের পর আশঙ্কা আরো প্রবল হয়েছে।

এই মামলা নিয়ে বিপক্ষ দলগুলো নির্বাচনী প্রচার বিএনপিকে কোণঠাসা রাখতে চেষ্টা করবে এমনটা মনে করছেন দলটির নেতারা। অপরদিকে এই মামলা নিয়ে বিএনপিও জনগণের সমবেদনা আদায়ে সরব থাকবে বলে জানান তারা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের সিলেট সফরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সিলেট সফর করে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় শামিল হন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিলেট সফর নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এটা দলীয় কোনো সফর না, মাজার জিয়ারত। এটাকে দলীয় সফর হিসেবে আমরা দেখছি না। ম্যাডাম কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ করেননি। কিন্তু লোকজন উজ্জীবিত। ম্যাডাম সেখানে গিয়েছেন। স্থানীয়রা ম্যাডামকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট সিলেট সফর করে এসেছেন, সেক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসনের সিলেট সফর পাল্টা জবাব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি সেটা মনে করি না। সেরকম হলে তো নিশ্চয়ই ম্যাডাম সেখানে একটা সমাবেশ করতেন। উনি গিয়েছেন, জিয়ারত করে চলে এসেছেন। অলি-আউলিয়ার মাজারে যে কেউই যেতে পারেন। সে কারণে এটাকে কাউন্টার হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।’

চেয়ারপারসনের সফর নিয়ে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন বলেন, ‘এটাতো মূলত উনি দুই সাধক পুরুষের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের জন্য এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া করেছেন। দলের নেতাকর্মী এবং ওনার পরিবারের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সিলেট সফরের প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জীবন বলেন, ‘এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটে এক মাসের অধিক সময় প্রচার পর যে সমাবেশ করেছেন, আর ম্যাডাম খালেদা জিয়া মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে কোনো জনসভাও না, বক্তৃতাও না শুধু হাত তুলে চলে গেছেন। ওনার যে গ্রহণযোগ্যতা ওনার যে জনপ্রিয়তা এটাই তার প্রমাণ। রাজনীতি, নির্বাচন সব জায়গাতেই এর প্রভাব পড়বে।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন