বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৪:৪৩:২৭ পিএম

রাবির সমাবর্তনে সভাপতিত্ব নিয়ে সমালোচনা; কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

মো. নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:২৪:৩১ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্ব করা নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। ১৯৭৩-র অধ্যাদেশ অনুযায়ী সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। আচার্য অনুপস্থিত থাকলে সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য (ভিসি)। সমাবর্তনে নিবন্ধিত অধিকাংশ গ্রাজুয়েট ও শিক্ষার্থীরা আচার্য বা উপাচার্যর স্থলে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্ব করা নিয়ে আপত্তি তোলেন।

সমাবর্তন নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরে জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এর ব্যাখ্যা দেন জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার।

অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার জানান, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য মো. আবদুল হামিদকে সভাপতিত্ব করার জন্য অনুরোধ জানায়। আচার্য ব্যক্তিগত কারণে আসতে না পারায় তিনি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে সভাপতিত্ব করার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। একই ধরনের ঘটনা এর আগে অষ্টম সমাবর্তনেও ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য কিংবা প্রশাসনের অন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের এখানে ভিন্ন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও ফেসবুকে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে আচার্য (রাষ্ট্রপতি) দফতর থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা সমাবর্তন ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে রেজিস্ট্রেশন করা গ্রাজুয়েটদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিভ্রান্ত না হতে আহ্বান জানান তিনি।

গত ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীকে রাবির দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আগামী ২৪ মার্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময় নির্ধারণ করে দেন। এরপর থেকে নিবন্ধিত অধিকাংশ গ্রাজুয়েট ও শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির স্থলে শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্ব করা নিয়ে আপত্তি তোলেন। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তারা শিক্ষামন্ত্রী নয়; রাষ্ট্রপতিকেই সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে থাকার দাবি জানায়। যদি রাষ্ট্রপতি না আসতে পারেন সেক্ষেত্রে ১৯৭৩ সালে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্থলে রাবি উপাচার্যকে সভাপতিত্ব করার দাবি জানিয়ে আসছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন