সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৭:১৬:৪০ এএম

খালেদার জেল: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ফখরুল

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৩:৩৮:৩৭ পিএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। আর এই সাজার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে হয়রানি করতে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এ মামলায় তারেক রহমানসহ বাকিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বকশীবাজার কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিশেষ জজ ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অপরাধে দণ্ডিত হলেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হন। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজাও খাটেন।

এর আগে, বকশিবাজার বিশেষ আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও মীর নাসের এবং দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলও আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি সলিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদকে আদালতে আনা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ মামলার প্রধান আসামি। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টায় রায় শুনতে তিনি আদালতে পৌঁছান। কারাগারে থাকা দুই আসামি মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও আদালতে উপস্থিত আছেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া রওনা হন। তার গাড়ি বহর হাতিরঝিল হয়ে মগবাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শত শত নেতাকর্মী বের হয়ে আসেন। তারা খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে গাড়ি বহর কিছুক্ষণ থেমে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে গাড়ি চলতে থাকে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা কাকরাইল পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আদালতের প্রস্তুতি শুরু হয়। রায় ঘিরে আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোড়ে মোড়ে বসানো হচ্ছে তল্লাশি চৌকি, চলাফেরায় আনা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার শুরু থেকেই তিন আসামি তারেক রহমান, ড. কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করবেন বলে দিন ধার্য রয়েছে।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে এতিমদের জন্য আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৩ মাস তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ২৮ কার্যদিবসে আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার মাধ্যমে নিম্ন আদালতের বিচারকাজ শেষ হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন