সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৩:৩৮:৫৩ পিএম

ফোকলোর বিভাগের সভাপতিকে তালাবদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের অবস্থান র্কমসূচি

মো: নুরুজ্জামান | শিক্ষাঙ্গন | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৫:০৬:৪৭ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের জেরে ফোকলোর বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেনকে তালাবদ্ধ করে আন্দোলন করেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ৯টার দিকে সভাপতিকে তার কক্ষে আটকে রেখে কক্ষের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফয়জার রহমান তাকে মুক্ত করেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের ১২০,১২১ ও ১২২ নম্বর কক্ষগুলো ব্যবহার করতো ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ২০১১ সালে ১২১ নম্বর কক্ষটি প্রশাসন থেকে ইতিহাস বিভাগকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে ১২২ নং কক্ষে চতুর্থ বর্ষের ক্লাস নিচ্ছিলেন ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক ড. উদয় শংকর বিশ্বাস। এ সময় ১২১ নং কক্ষে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশৃঙ্খলা করছিল। এতে পাঠদানে সমস্যা হওয়ায় চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী তাদেরকে গোলমাল করতে নিষেধ করলে তার সঙ্গে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এরপর একই দিন (বুধবার) দুপুর ১২টার দিকে ক্লাস বর্জন করে নিজেদের শ্রেণিকক্ষে এবং ইতিহাস বিভাগের (১২১) কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে সমাধান চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন তারা।

এদিকে আজ সকালে ফোকলোর বিভাগের সভাপতি ড. আখতার হোসেন ইতিহাস বিভাগের কক্ষের তালা খুলে দেন। এতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সভাপতির প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একই সাথে শিক্ষার্থীরা ১২১ নম্বর কক্ষটি ফিরে পেতে সভাপতির কক্ষের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই আমাদের ক্লাস চলাকালীন হৈ চৈ করে। আমরা নিষেধ করলে তারা তা উপেক্ষা করে আমাদের বিরক্ত করে। বেশি কিছু বলতে গেলে নানা রকম হুমকি ধামকি দেয়।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। প্রতিবাদ করতে গেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর লুৎফর রহমান বলেন, ’দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্ব›দ্ব সমাধানের লক্ষ্যে আজ কলা অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, আমি ও দুই বিভাগের সভাপতি আলোচনায় বসবো। এরপর সিদ্ধান্ত হবে কোন বিভাগ ওই কক্ষটি ব্যবহার করবে।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন