মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৩:৫২:০৫ পিএম

কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ের একটি কক্ষে খালেদা জিয়া

আইন আদালত | বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮:০৩:৩০ পিএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের ব্যবহৃত কার্যালয়ের একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে।

ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাবেন।

এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। তারেক রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের সবার ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

দুপুর ২টা ২৯ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমানো হয় বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের বিশেষ অংশ পাঠ করেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া ছাড়াও অপর দুই আসামি সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর কড়া পুলিশি পাহারায় খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এজলাসের সামনে রাখা চেয়ারের সামনে যেতেই ছুটে এলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতারা। চেয়ারে বসে তিনি ভ্যানিটি ব্যাগ ও রোদচশমা খুলে রাখেন। এ সময় তাকে অনেকটা ভাবলেশহীন দেখা যায়।

২টা ১৫ মিনিটে বিচারক আসনে বসেন। তিনি প্রাইভেট সিকিউরিটি ফোর্স কেউ থাকলে বাইরে চলে যেতে বলেন। বিচারক বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় সম্পূর্ণ পড়তে অনেক সময় লাগবে তাই মূল কথাগুলো পড়ব। শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগের কথা দিয়ে রায় পড়া শুরু করলে খালেদা জিয়া কখনও চেয়ারের হাতলে দুহাত রেখে আবার কখনও দুহাত একত্রে কোলে রেখে চোখ বন্ধ করে রায় শুনেন।

এসময় খালেদার পরনে ক্রিম কালারের প্রিন্টেট শাড়ি, শাড়ির ওপর একই রঙের পাতলা চাদর। ৫ বছরের কারাদন্ডের রায় শুনে খালেদা জিয়া ভেঙে পড়েন। এসময় বিএনপির আইনজীবীদের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। খালেদা জিয়াকে তখন খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। অনেকটা ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ১০ বছরের কারাদণ্ডই বহাল রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে অর্থদণ্ড হিসেবে আত্মসাৎকৃত ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আসামিদের পরিশোধ করতে বলা হয়েছে সব আসামীকেই।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন