শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ ০২:৫১:০১ পিএম

সশস্ত্র অবস্থানে মুখোমুখি ছাত্রদল-ছাত্রলীগ, চলছে সংঘর্ষ -গুলাগুলি

জেলার খবর | বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৯:২০:০৮ পিএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজাকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বন্দর বাজার এলাকায় সশস্ত্র অবস্থানে মুখোমুখি ছাত্রলীগ-ছাত্রদল, ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনা।

বেলা আড়াইটা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ এখনো চলছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন এসময় গুলির শব্দও শোনা গেছে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিলেট সিটি পয়েন্টে সশস্ত্র অবস্থানে রয়েছে অপরদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নগরীর হকার পয়েন্টে সশস্ত্র অবস্থানে রয়েছে।

রায় ঘোষণার সাথে সাথেই বন্দর বাজার এলাকায় কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরো নগরীতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

এ সময় এজলাসে মামলার আসামি খালেদা জিয়া, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে খালেদা জিয়াই প্রথম দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে দণ্ডিত হলেন। মামলার ১০ বছর পর এ রায় এলো।

এ মামলায় ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২৮ কার্যদিবস ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর পর ১৬ কার্যদিবস উভয়পক্ষের (দুদক ও আসামিপক্ষ) যুক্তিতর্ক শুনানি হয়।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন।

এতে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মমিনুর রহমান, কাজী সালিমুল হক কামাল, শরফুদ্দিন আহমেদ, সাঈদ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিনকে আসামি করা হয়। তদন্তে সাঈদ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় চার্জশিট থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়। তদন্তে নতুন করে আসামি হিসেবে যুক্ত হন ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯১-১৯৯৬ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় একটি হিসাব খোলেন। একটি বিদেশি সংস্থা ১৯৯১ সালের ৯ জুন ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা দেয়।

কিন্তু তহবিলের ওই টাকা দীর্ঘ দুই বছর কোনো এতিমখানায় না দিয়ে জমা রাখা হয়। এর পর জিয়া পরিবারের তিন সদস্যকে (তারেক, আরাফাত ও মমিনুর) দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে এর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে ঠিকানা হিসেবে খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের ৬ নম্বর মইনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

মামলায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা ১৯৯৩ সালে দুভাগে ভাগ করে ট্রাস্টের বগুড়া ও বাগেরহাট শাখার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়, যা থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাস্টের নামে বগুড়ায় প্রায় তিন একর জমি কেনা হয়। কিন্তু অবশিষ্ট টাকা এতিমখানায় ব্যয় না করে দীর্ঘ ১৩ বছর ব্যাংকে জমা রাখা হয়। পরে তা সুদাসলে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৯ হাজার ৭৫৭ টাকায়।

দুদকের অভিযোগ, ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও স্বজন মমিনুর রহমানকে দিয়ে তিন কিস্তিতে ৬টি চেকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা তুলে প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেন। এর পর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক, সৈয়দ আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও শরফুদ্দিন আহমেদের প্রাইম ব্যাংকের নিউ ইস্কাটন শাখার ব্যক্তিগত হিসাবের মাধ্যমে ওই টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করেন।

এর প্রায় ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরু করেন।

এ মামলায় খালেদা জিয়া অস্থায়ী জামিনে ও অপর দুই আসামি কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ তিন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন