শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ ০৫:১৭:১১ পিএম

৩ রাত একসঙ্গে কাটানোর পর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বন্ধুকে খুন করল গৃহবধূ।

আন্তর্জাতিক | শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:১৮:৪৩ এএম

তিন রাত একসঙ্গে কাটানোর পর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক বন্ধুকে খুন করল এক গৃহবধূ। মঙ্গলবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে ওই বধূর বাড়ি থেকেই বিশ্বনাথ নাগ (৩০) নামে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় কালো দাগ, কোমরে আঘাতের চিহ্ন আছে।

বুধবার দুর্গাপুর থানার পুলিস অভিযুক্ত গৃহবধূ মৌসুমী ভট্টাচার্য (২৬) ও তার স্বামী শান্তনু ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছে। এদিনই তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এসিপি উমেশ গণপথ বলেন, খুনের মামলা রুজু করে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধানবাদের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বিশ্বনাথের সঙ্গে মৌসুমীর দেড় বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। মৌসুমীর একটি স্কুল পড়ুয়া মেয়েও আছে। তা সত্ত্বেও ফেসবুকে আলাপ হওয়ার ছ’মাস পরেই বিশ্বনাথকে সে দুর্গাপুরের বাড়িতে ডেকে নেয়। কলকাতা যাওয়ার নাম করে প্রতি মাসে একাধিকবার বিশ্বনাথ ধানবাদ থেকে দুর্গাপুরে এসে মৌসুমীর সঙ্গে সময় কাটাতেন। রাতেও তিনি থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতায় কাজে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্বনাথ মৌসুমীর দুর্গাপুরের বাড়িতে আসেন। তিন রাত একসঙ্গে কাটানোর পর মঙ্গলবার দুপুরে অশান্তি শুরু হয়। মৌসুমী বিশ্বনাথের কাছ থেকে প্রচুর টাকা দাবি করেন। তিনি তা দিতে না পারায় মৌসুমী ও তার স্বামী মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে বলে পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ। রাতে মৌসুমীই বিশ্বনাথবাবুর বাড়িতে ফোন করে বলে, ও আত্মহত্যা করেছে।

মৃতের জামাইবাবু গৌতম মোদক বলেন, ওই মহিলা বিশ্বনাথের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম দাবি করত। একমাস আগেই ৭০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে স্কুটি কিনে দিয়েছে। মেয়ের স্কুলের ফিজ বাবদও ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। প্রতি মাসেই হাত খরচের জন্য ১০-১২ হাজার টাকা, মোবাইলসহ দামি সামগ্রী প্রায়ই নিত।

বিশ্বনাথের বন্ধু রবি সাহু বলেন, ও মৌসুমীকে অন্ধের মতো ভালোবাসত। মৌসুমী বিয়ের স্বপ্নও দেখিয়েছিল বিশ্বনাথকে। ব্যাপারটা জেনে আমরা বিশ্বনাথকে অনেকবার সাবধান করেছিলাম। কিন্তু কারো কথা না শুনে ও প্রতিমাসে একাধিকবার দুর্গাপুরে আসত। এবারও শনিবার ধানবাদ থেকে বাইক নিয়ে চলে এসেছিল। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনার পরও মৌসুমীর কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি। সে থানার লকআপে বসে অনেকক্ষণ রূপসজ্জায় ব্যস্ত ছিল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন