রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৯:৩৫:১৯ এএম

পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক আওয়ামী লীগ

জাতীয় | শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:৪২:২৬ এএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্থানীয় এমপিদের। তাদের আগামী কয়েক দিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলের নির্দেশনা পাওয়ার পরই ঢাকায় থাকা এমপিরা দ্রুত এলাকার গিয়ে অবস্থান নেন।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, বাছাই করা কয়েকটি জেলার নেতাদের এলাকায় অবস্থান করতে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওইসব এলাকার নেতাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভুলে রায় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে।

এসব জেলার মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, বগুড়া, ফেনী, রংপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরো কয়েকটি জেলা। আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য করলে তার বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। যেখানেই নৈরাজ্য-নাশকতা সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ক্ষমতাসীনরা। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খালেদা জিয়ার রায়সহ বিভিন্ন অজুহাতে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন ভণ্ডুল করে একটা অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আনতে চায়। তারা নানারকম বিভ্রান্তিকর কথা বলে। সংসদ ভেঙে দেয়াসহ নানা সময়ে বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি করছে। মূলত এগুলো নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা। তাদের এই অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল মাঠে থাকবে।

পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী বিএনপির পক্ষে আছে বিএনপি নেত্রীর এমন বক্তব্যকে উস্কানি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বলছে পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী তাদের সঙ্গে আছে। তাহলে আবার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চান কেন? তার মানে এটি উস্কানি। তারা একটি বাহিনীকে উস্কানি দিতে চায়। বলতে চায়, সেখানে তাদের লোক আছে।

এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতাদের ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওইদিন যেভাবে হামলা করে বিএনপি পুলিশ মারল, প্রিজন ভ্যান ভাঙল। এটা কী কোনো রাজনৈতিক দল না ডাকাত-ছিনতাইকারীর দল? এটি পূর্বাভাস। তারা আবারো সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চায়। আমরা জানি এটা জনগণের শক্তি নয়, সন্ত্রাসীদের শক্তি। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে দেশে আবার কোনো জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে ‘ছারখার’ হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। রায়ে খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এতে আওয়ামী লীগের কোনো হাত নেই। প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনাও বরিশালের জনসসভায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

তারা জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ওই মামলা আওয়ামী লীগের আমলে করা হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের মামলা। কাজেই এই রায়কে ঘিরে বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। কেন্দ্র থেকে ইতিমধ্যে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপির বিশৃঙ্খলা ও আন্দোলন ঠেকাতে ইতিমধ্যে রাজধানীতে এলাকাভিত্তিক কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ।

এদিকে রায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা করা হলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন করবে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে আগের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা চলবে না। তারা জনগণের বন্ধু, তারা পেশাদার পুলিশ। কাজেই বিশৃঙ্খলা কিংবা ধ্বংসাত্মক কিছু ঘটলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। -এমজমিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন