বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৬:৩৮:৩৫ এএম

অদম্য মেধাবী ছাত্র কামাল কি হেরে যাবে?

জাতীয় | শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৩:০৫:১৫ এএম

ছোটবেলায় বাব-মা দু'জনকেই হারিয়ে এতিম হন শিশু কামাল। কিন্তু তার সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বিধবা বোন তাছলিমা খান। অন্যের বাড়িতে কাজ করে ভাইকে লেখাপড়া শেখাতে থাকেন। বোনের ত্যাগের মূল্যও দিচ্ছিল কামাল।

খুলনা জেলার কয়রা থানার দরিদ্র এই অদম্য মেধাবী ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় নিজেকে রাখেন সবার শীর্ষে। প্রথম শ্রেণি থেকেই তার অবস্থান প্রথম। প্রাথমিকে পেয়েছিলেন ট্যালেন্টপুল বৃত্তি। অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেন। এসএসসি ও এইচএসসি দুটি পরীক্ষায়ই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পান। কিন্তু ভাগ্য কামালের সহায় হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত খুলনার বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ালেখা চলছিল কামালের।

লেখাপড়া ঠিকঠাক চলছিল কামালের। কিন্ত গত সপ্তাহে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বন্ধুরা তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার ব্রেন টিইমার ধরা পড়েছে। বর্তমানে তাকে খুলনা সদর হাসপাতালে নিচচলায় ৫নং ওয়ার্ডে (পুরুষ) রাখা হয়েছে। হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম তার চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন।

ডাক্তার জানিয়েছেন, কামালের ডায়াবেটিস রয়েছে। দিন দিন তার অবস্থা অবনতির দিকে। এজন্য তাকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করাতে হবে। আগামী রোববার তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। সেখানে কামালের অপারেশনে খরচ হবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

এদিকে কামালের দুই বোন ছাড়া আর কেউ নেই। তাই বন্ধুরাই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রায় ৩০ যুবক মিলে খুলনা শহরে সাহায্য তুলতে শুরু করেছে। এই গ্রুপে যারা নেতৃত্বে দিচ্ছেন তার মধ্যে একজন গোপালগঞ্জ শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজের ছাত্র তারিক লিটু।

তিনি বলেন, আমরা জানি যে কামালের বিধবা বোনই তার ভরসা। এখন তার যে রোগ হয়েছে তাতে মহাবিপদ। কেউ নেই বলে আমরা সবাই তার পাশে দাঁড়িয়েছি। 'আমরা কামালের বন্ধু'নামে আমরা একটি গ্রুপ করে সাহায্য তুলছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন