শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ ০৮:২৪:৩৮ এএম

ছেলের ফেসবুক স্ট্যাটাস, বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্মম নির্যাতন!

জেলার খবর | শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৫:২০:৫৬ পিএম

ছেলের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বাবাকে প্রকাশ্যে খুঁটিতে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম রুবেলকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শনিবার কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতের শিকার চৌফলদন্ডী ইউপি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি ছৈয়দ নূর। তিনি একই এলাকার মৃত আবদুর করিমের ছেলে। এর আগে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল হিন্দু পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ নূর (৪৫) বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি। খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে এলাকার লোকজন।

এ বিষয়ে ছৈয়দ নূর জানান, স্থানীয় মসজিদ থেকে জুমার নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি আমাকে টেনে-হিঁচড়ে একটি দোকানের খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।

পরে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নূর দাবী করেছেন, হামলাকারীরা এ সময় পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে।

স্থানীয় যুবলীগ কর্মী শাহিদ মোস্তফা বলেন, ছৈয়দ নূরের ছেলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। সেই অপরাধে যদি বাবাকে ধরে নিয়ে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়, সেটি মেনে নেয়া যায় না। ছৈয়দ নূর একজন আওয়ামী লীগ পাগল কর্মী। ৮ ফেব্রুয়ারি ঈদগাঁও বাসস্টেশনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে তিনিও অংশ নিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছৈয়দ নূরের ছেলে হারুনর রশিদ সৌদিআরব প্রবাসী। সে একই এলাকার রুবেলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করে। আর এ কারণে ছেলের পরিবর্তে বাবাকে নির্যাতন করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম বলেন, বেঁধে রেখে নির্যাতনের বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) মাঈন উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে মারধরের দায়ে রুবেলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জাগোনিউজ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন