রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৯:৪৪:২৩ এএম

খালেদার জামিন আবেদনে যেসব যুক্তি উপস্থাপন করতে পারে আইনজীবীরা

জাতীয় | শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:০৬:১১ পিএম

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কারাবন্দী হওয়ার পরপরই তার সাজার বিরুদ্ধে আপিলের কথা জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।

এই মুহূর্তে তারা কাজ করছেন সেই প্রক্রিয়া নিয়ে। দুই-একদিনের মধ্যে করা হবে আপিল ও জামিন আবেদন। সে সময় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কী কী বিষয় উপস্থাপন করা হবে, তা জানিয়েছেন তার দুই আইনজীবী। ওই আইনজীবীরা জানান, আপিলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় আনা হবে, তা ঠিক করতে একটি আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এ কাজটি করছেন। রয়েছেন একদল তরুণ আইনজীবীও। কাজ করছেন দিন-রাত। চলছে ড্রাফটিং। রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার পরই জামিন আবেদন (বেইল-পিটিশন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হবে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাননি বলে প্রিয়.কমকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন। তিনি বলেন, ‘আমরা রায়ের কপি পাওয়ার পর হাইকোর্টে ম্যাডামের জামিন আবেদন করব। আবেদন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, রোববার থেকে জামিন আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আপিলে কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হবে, তা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবীদের একজন বলেন, ‘আবেদনে খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনা, সামাজিক অবস্থান মূল্যায়নের কথা বলা হবে। তাকে জামিন দিলে তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাবেন না। কারণ তিনি এ দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এ যুক্তিটি আবেদনে তুলে ধরা হবে। খালেদা জিয়া বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আদালতের কাছে অনুরোধ করা হবে।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি এ মামলার রায়ে একটি বড় অসঙ্গতি। সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। জামিন ও আপিল আবেদনের জন্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের আদালতে শুনানি করতে পরামর্শ দিয়েছি।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন প্যা‌রেড মা‌ঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিনই বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে।

এর আগে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে দুর্নীতির অভিযোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত (স্পেশাল কোর্ট)-৫ এর বিচারক ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি হিসেবে তার ব্যবসায় যেকোনো প্রকারের কোনো সম্পত্তি বা কোনো সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

আর দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২)-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হবেন। অপরাধমূলক অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট অর্থিক সম্পদ অথবা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।’

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘আদালত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি অসংগতি করেছে। এই পয়েন্টগুলো আমরা আদালতে তুলে ধরব।’ প্রিয়ডটকম।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন