সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ ১০:২১:৫৫ পিএম

নয় বছরে খালেদা জিয়ার ৩!

রাজনীতি | শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:১০:০২ পিএম

দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

রায়ের পর বেগম খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের ঐতিহাসিক পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। রায় ঘোষণার পর বকশীবাজারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থেকে তাকে একটি সাদা গাড়িতে করে র্যাব ও পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে নেয়া হয়। এ সময় পুরো এলাকার পরিবেশ ছিল নীরব, নিস্তব্ধ।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় খালেদা জিয়াকে ওই কারাগারের সাবেক সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষে রাখা হয়েছিল। যদিও খালেদা জিয়াকে কারাগারের মহিলা ওয়ার্ডের ডে-কেয়ার সেন্টারের তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীর মর্যাদা দিয়ে রাখার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ নতুন খাট, টেবিল, চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কারা সূত্রে জানা গেছে।

রাজনৈতিক টানা পোড়েন ও আইনের বিধিবিধানের কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত ৯ বছরে তিনটি আবাসস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে।

আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদে বাতিল করা হয় বেগম জিয়ার মইনুল হোসেন রোডের বাসভবনটি। এটা নিয়েও তখন সরকারের সাথে বিএনপির ব্যাপক আইনগত ও রাজনৈতিক বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বেগম জিয়া বাধ্য হন সেনানিবাসের বাসভবনটি ছেড়ে দিতে। তিনি ওঠেন গুলশানের একটি বাড়িতে। সেখানেই তিনি বাস করতে শুরু করেন।

কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বেগম জিয়া এখন কারাবন্দী। তিনি এখন বাস করছেন নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পরিত্যক্ত কারাগারে। বিএনপি দাবি করেছে, তাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। নির্জন কারাবাস দিয়ে সরকার আইন লঙ্ঘন করেছে।

খালেদা জিয়ার সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কাতার, পাকিস্তান ও শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের পর ঢাকার ওপর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দিল্লি। প্রতিবেশী এ দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না ভারত। এ দেশটির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চীন অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এ বিষয়টি পুরোপুরি এবং খুব ভালোভাবে জানে ভারত। তা সত্ত্বেও তারা এমন অবস্থান নিয়েছে।

পূর্ব পশ্চিম

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন