সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ০৫:২৭:৫৮ পিএম

জেনে শুনে বিষ করেছি পান!

খেলাধুলা | রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৩৪:১৮ এএম

চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং উইকেটেও ছিল ব্যর্থতা। দুই ইনিংসে মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত হারতে হারতে রক্ষা। ড্র’র প্রাপ্তিতে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল সেই ব্যাটিং ব্যর্থতা। কিন্তু ঢাকা টেস্টে শেষ রক্ষা হয়নি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ২৩৩ রান, ম্যাচ শেষ আড়াই দিনে।

২১৫ রানে হেরে শ্রীলঙ্কাকে টেস্ট সিরিজও উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এমন হার, এমন ব্যাটিং নিয়ে আসলে কী জবাব আছে? অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কাছেও ছিল না জবাব। তবে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এমন হতে পারে তাদের ধারণা ছিল। বিষয়টা জেনে শুনেই বিষ পান করার মতো।

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কারণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে স্পিন সহায়ক পিচ বানিয়ে বাজি ধরা হয়েছিল। কিন্তু তা বুমেরাং হয়ে গেছে। এই বাজি ধরার সমর্থনে বাংলাদেশ অধিনায়ক কিছু ব্যাখাও দিয়েছেন ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে। তার কথপোকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: এমন ব্যাটিংয়ের কী জবাব?
মাহমুদুল্লাহ: জবাব দেয়া আসলে কঠিন। অবশ্যই খুব হতাশাজনক। এ ধরনের উইকেটে হয়তো আমরা জানতাম টার্গেট চেজ করবো। ধারণা ছিল যে এই টেস্টে আমরা রেজাল্ট দেখবো। কারণ স্পিনসহায়ক উইকেট। সেই হিসেবে আমাদের প্রথম ইনিংসেই ভালো করা উচিত ছিল। আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে জিনিসটা আমরা পিছিয়ে গেছি। প্রথম ইনিংসে যদি আমরা ২০০ বা তার বেশি করতে পারতাম তাহলে হয়তো আমাদের আরেকটু ভালো সুযোগ ছিল। কারণ এই উইকেটে ৩৪০ তাড়া করা কঠিন, তাই অতিরিক্ত চাপ ছিল।

প্রশ্ন: কিন্তু যেভাবে ব্যাটসম্যানরা আউট হলেন তা কতটা গ্রহণযোগ্য?
মাহমুদুল্লাহ: ওরা ৩৩৮ রানের লিডে ছিল। তখন এ ধরনের উইকেটে যদি আপনি কিছু করার লক্ষ্য না নিয়ে খেলেন, যদি পজিটিভ না থাকেন, যদি বোলারকে সুযোগ দেন তাহলে বিপদে পড়তে হবে। তবে হ্যাঁ, বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করলেও আপনাকে বল বাছাই করতে হবে সঠিকভাবে। আপনি কোন্‌ শট খেলবেন, কোন্‌টা রক্ষণাত্মক হবে! ঠিকমতো না হলে আসলে কঠিন। একটা বল সোজা যাচ্ছে, একটা লোয়ার বাউন্স হচ্ছে, একটা নিচেও নামছে। সেদিক থেকে যদি পজেটিভ না খেলি মনে হয় বোলারদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ওরা (শ্রীলঙ্কান বোলার) সব সময় চাপটা আমাদের উপর রেখেছে।

প্রশ্ন: মোসাদ্দেকের পরিবর্তে সাব্বির কেন?
মাহমুদুল্লাহ: সাব্বিরকে নেয়ার আরেকটা কারণ ছিল যে ও স্পিনে খুব ভালো খেলে। সুইপ, রিভার্স সুইপ এগুলো খুব ভালো পারে। আর আমার মনে হয় এই উইকেটে, যেটা আগে বললাম অ্যাটাকিং অ্যাপ্রোচ না থাকলে সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন উইকেট কেন?
মাহমুদুল্লাহ: ক্রিকেট খেলা তো একটা বাজির মতো। আমরা জানতাম যে ওদের স্পিন ডিপার্টমেন্টটা খুব ভালো। আর আমাদের স্পিন ডিপার্টমেন্টও। জানতাম আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হবে কিন্তু আমরা তাদের উপর ভরসা রেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ব্যাটসম্যানরা ভালো পারফর্ম করতে পারেনি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের খেলার ধরন টেস্ট মানসিকতার সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?
মাহমুদুল্লাহ: আপনি যদি চিটাগংয়ের কথা ধরেন, ওখানে উইকেট ব্যাটিং সহায়ক ছিল। ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে। এজন্যই এখানে আমরা চাচ্ছিলাম স্পিনসহায়ক উইকেট হোক। আমরা ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের ওপর বিশ্বাস রাখি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের ব্যাটসম্যানরা পারফরম করতে পারেনি। তাই এখন এ ধরনের কথা হচ্ছে। আমার মনে হয় যে আপনি সবমিলিয়ে দেখেন, বিদেশের মাটিতে যেখানে সাকিব ২০০ করেছে, মুশফিক ১৫০ করেছে, তামিম রান করেছে ধারাবাহিকভাবে; মাশাআল্লাহ। এই সময়ের মধ্যে আমরা ঘরের মাঠে ম্যাচ জিতেছি, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ জিতেছি। তো আমার মনে হয়, এই ধরনের বাজিগুলো ধরতেই হবে। না হলে, এভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলে কোনো লাভ নেই। সাফল্য আসবে, ব্যর্থতা আসবে।

প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মানসিকতায় তো পার্থক্য ছিল?
মাহমুদুল্লাহ: পার্থক্য এতটুকুই ছিল, আপনি হেরাথ, দিলরুয়ান বা আকিলার বোলিং দেখেন, আমরা যে কয়টা বাউন্ডারি মেরেছি অনেক ঝুঁকি নিয়ে মারতে হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের স্পিনাররা পাঁচটা বল ভালো করেছে, একটা বল সহজ বাউন্ডারি দিয়েছে। এই ব্যাপারটা ওদের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে দিয়েছে। আমার মনে হয় এই ব্যাপারে কাজ করার আছে। এই উইকেটে ধৈর্যটা দরকার। আমাদের স্পিনারদের আরেকটু ভালো করা উচিত ছিল, কিন্তু ব্যাটিংটাই দায়ী ছিল বেশি।

প্রশ্ন: সাকিবের অভাব কতটা বোধ করেছেন?
মাহমুদুল্লাহ: ম্যাসিভলি! ওর ব্যাটিং ও বোলিং মিস করেছি। সবাই জানি ওর সামর্থ্য। বিশেষ করে ওর বোলিং এই উইকেটে আরো ভয়ংকর হতো। কারণ ওর নিয়ন্ত্রণ আরো ভালো। ও ব্যাটসম্যানদের আরো রিড করতে পারে, খুব তাড়াতাড়ি ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে পারে। সবাই জানেন, ও একজন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান। সেদিক দিয়ে ওকে অনেক মিস করেছি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন