বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০২:৩৭:৫৭ এএম

টেস্ট খেলিয়ে টি-টোয়েন্টি অনুশীলন বিসিবির বৈপ্লবিক আবিস্কার!

খেলাধুলা | রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৪:৪৮:১৫ পিএম

প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগনের মধ্যে প্রায় সবাই 'ডাক্তার'! বিশ্বাস না হলে যে কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, যে কোনো রোগের পরামর্শ পেয়ে যাবেন। বিষয়টি হাস্যকর লাগছে তাই না? আরেকটু হাসির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে প্রিয় পাঠকদের। বাংলাদেশে যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন, তারা সবাই একেকজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। কাকে রাখতে হবে আর কাকে বাদ দিতে হবে তা নিয়ে মন্তব্যের শেষ নেই। তেমনি উদ্ভট সব ফর্মুলা আবিস্কারেও জুড়ি নেই আমাদের।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের হর্তাকর্তাদেরও ক্রিকেট বিষয়ক চিন্তাভাবনার তুলনা হয়না। যেমন ধরুন সাব্বির রহমানকে দ্বিতীয় টেস্ট দলে নেওয়া। নিয়মিতভাবে ব্যর্থ হওয়া এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যানকে কেন টেস্টের মত ফরম্যাটে নেওয়া হলো, তার বিশদ ব্যাখ্যাও আছে। তার আগে জেনে নিন ঢাকা টেস্টের দুই ইনিংসে সাব্বির করেছেন ০ এবং ১ রান। বল খেলেছেন সর্বমোট ৫টি। ক্যাচ ছেড়েছেন কমপক্ষে ৪টি।

একজন ক্রিকেটার ব্যর্থ হতেই পারেন, কিন্তু সাব্বিরকে দলে নেওয়ার কারণটা কিন্তু আসল মজা। টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট এই হার্ডহিটারকে টেস্ট দলে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু বলেছেন, 'টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওকে নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। ওর তো অনুশীলনও দরকার। তাকে যদি কোথাও না রাখি, তাহলে তো অনুশীলনের সুবিধাও পাবে না।'

দাঁড়ান, হাসবেন না। সাধারণ একজন ক্রিকেট দর্শকও জানে টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য কী। টেস্ট ক্রিকেট খেলিয়ে টি-টোয়েন্টির অনুশীলন করানোর 'নতুন ফর্মুলা' বাংলাদেশেই 'আবিষ্কৃত' হয়েছে বলে স্বস্তিও পেতে পারেন। কিন্তু হাসবেন না। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাব্বিরের অনুশীলনটা কিন্তু বেশ দারুণ হয়েছে। ০+১=০। দারুণ না?

কেউ একজন ক্রিকেটারদের মাথায় গেঁথে দিয়েছিল, মিরপুরের উইকেটে ডিফেন্সিভ খেলে টিকে থাকা কঠিন। কথাটা পুরোপুরি মিথ্যে নয়। কিন্তু এই কথাকেই একমাত্র উপায় হিসেবে গ্রহণ করে টি-টোয়েন্টি স্টাইলে টেস্ট খেলা শুরু করল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ইনিংস মিলিয়ে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা খেলেছে ৬৫.৩+৭৩.৫= ১৩৯.২ ওভার। আর বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে খেলেছে ৪৫.৫+২৯.৩= ৭৫.১ ওভার। চমৎকার টি-টোয়েন্টি অনুশীলন। তাই না?

অল-রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন টেস্টে খারাপ করছিলেন না। সাব্বিরের চেয়ে তার গড়, প্রথম শ্রেণির রেকর্ড অনেক অনেক বেশি। কিন্তু এদেশের মানুষের ক্রিকেট মস্তিষ্ক এত প্রখর যে, যুক্তিগুলো পর্যন্ত খোঁড়া হয়ে যায়। প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর দেশের ক্রিকেটে একটা 'বৈপ্লবিক পরিবর্তন' এর দিবাস্বপ্ন দেখছিলেন বোর্ড কর্তারা।

টেকনিক্যাল ডিরেক্টর-নির্বাচকমণ্ডলী ভেবেছিলেন, বিশাল এক 'ক্রিকেট বিপ্লব' ঘটিয়ে পর পর ৩টি সিরিজ জিতে নিয়ে হাথুরুকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। দুটি সিরিজ ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে বিজয়ী দলের নাম শ্রীলঙ্কা। ১৫ তারিখ থেকে শুরু হতে চলা টি-টোয়েন্টি সিরিজে আদৌ রক্ষা কর যাবে কিনা, তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ আছে। হাজার হোক, যে দলের ক্রিকেটারদের টেস্ট খেলে টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি নিতে হয়; সেই দলকে নিয়ে আশা করা হঠকারিতা।কালেরকণ্ঠ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন