বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:২৬:৩১ পিএম

রায়ে সন্তুষ্ট রূপার পরিবার

আইন আদালত | সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:২৩:০৮ পিএম

আইন বিভাগের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রূপার পরিবার। আজ সোমবার টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবুল হোসেন মিয়া পাঁচ আসামির চার জনের ফাঁসি, এক জনের সাত বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রুপার মা হাছনাহেনা বানু জানান, অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি আর মেয়ের আত্মার শান্তি কামনায় রোজা রেখেছেন তিনি। রায়ে কি হয় তা শোনার জন্য ফজরের নামাজ আদায় করে মোবাইল ফোনটি পাশে রেখে জায়নামাজেই বসে ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে বড় ছেলে হাফিজুর রহমান তাকে রায়ের এ খবর জানান। রায় শোনার পর তিনি চার রাকাত শোকরিয়া নামাজ আদায় করেন। তিনি বলেন, 'যে রায় হয়েছে তাতে আমি খুশি। এখন একটাই চাওয়া ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হোক। এতটুকু দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাব।'

রূপার মা এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আর আক্ষেপ করেন, 'মেয়ে বলত ও পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নেবে। মা আর ভাই-বোনদের জন্য সবকিছু করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করত। মেয়েকে নিয়ে কত যে আশা ছিল, কত যে স্বপ্ন ছিল তা আর পূরণ হলো না। পাঁচ ধর্ষক ও হত্যাকারী তা পূরণ হতে দিল না।' তিনি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ রূপাধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে সরব দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

কথা হয় রুপার ছোট বোন পপির সঙ্গে। তিনি বলেন, 'আপুর মৃত্যুর পর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বগুড়াস্থ এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে আমাকে অফিস সহকারী পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি সেখানেই আছি। যে টাকা বেতন পাই, তা দিয়ে বাসাভাড়া দেওয়ার পর আর তেমন কিছুই থাকে না। অনেক কষ্টে অসুস্থ মা, ভাই-ভাবি, ভাতিজি নিয়ে চলছে সাত জনের সংসার।' এ সময় তিনি এত বড় একটা নৃশংস হত্যাযজ্ঞের রায় মাত্র সাত মাসের মধ্যে ঘোষণা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে চির কৃতজ্ঞতা জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিমকে, দুঃসময় তার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করায়।

রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, 'দেশে এই প্রথম কোন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামিদের সাত মাসে বিচারের রায় দেওয়া হলো।' তবে উচ্চ আদালতে আপিল করে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন হওয়া আসামিরা যাতে ছাড়া না পায়, অথবা কোনো ধরণের প্রভাব খাটিয়ে আসামিরা যাতে বের হয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে ওই দণ্ডপ্রপ্তরা ধর্ষণ করে এবং বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে তার মৃত দেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় তরুণী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার দুই দিন পর রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান একটি জাতীয় দৈনিকে মধুপুরে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধারের খবর দেখে মধুপুর থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত লাশের ছবি ও সালোয়ার-কামিজ দেখে শনাক্ত করেন যে এই তরুণীই তার বোন। ৩১ আগস্ট রূপার মরদেহ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াস উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন