রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ ০১:২৭:৩২ এএম

জাতীয় দলের সঙ্গে আর কোনো কাজই করতে রাজি নন খালেদ মাহমুদ!

খেলাধুলা | সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৬:৫৫:০২ পিএম

বোমা বললে কম বলা হয়। বলা উচিত একটা আগ্নেয়গিরিরই যেন বিস্ফোরণ ঘটালেন খালেদ মাহমুদ সুজন। বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তিনি, অলিখিতভাবে কোচের দায়িত্বই পালন করেছেন। অথচ এখন মাহমুদই বলছেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আর কোনো কাজই করতে রাজি নন!

ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হার দিয়ে শুরু। এরপর ফাইনালের পরাজয়, মিরপুর টেস্টে আড়াই দিনে গুটিয়ে যাওয়া… অনেক প্রশ্ন এখন সামনে আসছে নতুন করে। খালেদ মাহমুদ এসব নিয়েই কথা বলতে গিয়ে যেন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন। এমনকি বললেন, বোর্ড না চাইলে এই কাজও করতে রাজি নন!

‘নিদাহাস কাপে বোর্ড কোচ ঠিক করবে। কারণ পজিশনটা তো বোর্ড আমাকে দিয়েছে। কাজ করব না এই কথা কখনই বলতে চাই না। কিন্তু বাঙালি কেউ কাজ করলে সেটা আসলে সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমি এখনো টিকে আছি এটাই সবচেয়ে বড় কথা। বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পরেও। চন্ডিকা যখন প্রথম আসল। অনেক বড় বড় কোচ আসছে খারাপ রেজাল্ট হয়েছে শুরুতে। খারাপ রেজাল্ট আমি নিতেই পারি। বাংলাদেশ খারাপ খেলছে এটা আমাদের প্লানিং এর ভুল হতে পারে। বাট আরও স্টোরি তো আছে।’

নিজেই বাংলাদেশের কোচ হতে চেয়ে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সুজন। তিনি আরও জানান, ‘পারসোনালি আমি আর আগ্রহী না। আমার আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেই কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। আমার আসলে নোংরা লাগছে সত্যি কথা বলতে গেলে ওইভাবে। এতবছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে কাজ করছি, বাংলাদেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছি। এখানে আমার কোন স্বার্থ নাই। আমি আর আগ্রহী না।’

কিন্তু কী কারণে তার এমন অভিমান? মাহমুদ মিডিয়ার ওপরেই দোষ চাপাচ্ছেন, ‘ক্রিকেটের বড় অন্তরায় হচ্ছে মিডিয়া, একটা ব্যাপার আছে যে আমরা ফিশি হয়ে যাচ্ছি আসলে। মিডিয়ার কারণে আমাদের ক্রিকেট আটকায়ে আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।’

কিন্তু অভিমান করে দূরে সরে যাওয়া কি ভালো সিদ্ধান্ত? মাহমুদ ধরা গলায় বললেন, ‘আমি তো ঈশ্বর না। আমি তো খালেদ মাহমুদ সুজন। আমি খুবই সামান্য একটা মানুষ। আমি মনে করি আমার সামর্থ্য আছে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে কাজ করেছি মানুষ স্বীকার করুক না করুক আমি এটা ভালোবাসি।’

কদিন আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, মোসাদ্দেককে আবাহনীতে খেলানোর জন্য জাতীয় দলে রাখা হয়েছে কি না। এই ব্যাপারটাও ভীষণ আহত করেছে সুজনকে, ‘সত্যি কথা বলতে গেলে যখন আসে যে আমি আবাহনীর হেড কোচ। আমি মোসাদ্দেককে খেলাই নাই এই কারণে আবাহনীতে খেলার জন্য। যখন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নিয়ে কথা বলে তখনই এটা খুবই আহত করে। আমি মনে করি না বাংলাদেশের থেকে আবাহনী বা অন্য কিছু আমাকে টাচ করতে পারে। এটা মনে হয় যে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু করছি না। তাহলে আমার এখানে থেকে লাভটা কি। স্বার্থের জন্য আসিনি। আমার যা আছে আমি খুব ভালো আছি। আমি খুব খুশি, এখানে চাকরি করি, যতটুকু পাই বা যেভাবে চলি।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন