সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ ০৬:২৪:৩২ পিএম

ভিক্ষার টাকায় শৌচাগার বানাচ্ছেন এই বৃদ্ধা

আন্তর্জাতিক | সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮:২৬:৩৬ পিএম

মানুষের অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস হলো শৌচাগার। শৌচাগার না থাকাটা কতটা কষ্টের তা কেবল তারাই বলতে পারবে? যাদের শৌচাগার নেই। ভারতে এখনও সব জায়গায় শৌচাগার নেই। শৌচাগার না থাকার কারণে প্রায়ই খবরের জন্ম দিয়েছে ভারত। তবে এবার ভারতেই এক বৃদ্ধা নিজের ভিক্ষার টাকায় বানাচ্ছেন শৌচাগার।

ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের রহিমা বেওয়া নামের ওই নারী বলেছেন, মা-মেয়ে ভিক্ষা করে কিছু টাকা আর চাল জমিয়েছিলাম। সেই টাকাতেই শৌচাগার বানাচ্ছি। মাঠে-ঘাটে যেতে সম্মানে বাধে। ভয়ও লাগে।

নবাব সিরাজউদ্দৌলার জেলাকে নির্মল করতে উঠেপড়ে লেগেছে জেলা প্রশাসন। কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাচ্ছেন কেন শৌচাগার জরুরি। তাতে সাড়াও মিলছে। শৌচাগার তৈরি করতে ইতোমধ্যে কেউ বিক্রি করেছেন গৃহপালিত গরু, ছাগল থেকে শুরু করে কেউ কেউ বিক্রি করে দিয়েছেন গাছও।

কিন্তু ভিক্ষার জমানো টাকায় শৌচাগার? মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক পি উলগানাথন বলছেন, ওই বৃদ্ধা নজির তৈরি করলেন। তাকে সবরকম সাহায্য করব।

দৌলতাবাদের একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সম্পাদক হাবিবা বিবি বলেন, রহিমা বেওয়া ভিক্ষা করে শৌচাগার তৈরি শুরু করলে অন্যরা পারবেন না কেন? দুই হাজার টাকা সম্বল করে তিনি কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীও তাকে সাহায্য করবে।

দৌলতাবাদের প্রত্যন্ত গ্রাম নওদাপাড়ায় টালির ছাউনি দেয়া ছোট্ট ঘরে থাকেন ৮০ বছরের রহিমা ও তার মেয়ে কমলা খাতুন। রহিমার স্বামী মারা গিয়েছেন ৩০ বছর আগে। তিন ছেলে আলাদা থাকেন। মা-মেয়েতে ভিক্ষা করেই দিন কাটান তারা।

কয়েকদিন আগে মেয়ে কমলাকে রহিমা বলেন, জমানো চাল, টাকা দিয়ে শৌচাগার করলে কেমন হয়! না করেননি কমলাও। তার কথায়, প্রকৃতির ডাকে বাইরে যাওয়া শরমের ব্যাপার। জমানো সম্বল দিয়েই কাজ করছি।

এখন বাড়িতে বসে কাজ দেখভাল করেন রহিমা। তামাম গাঁ জানে, শৌচাগার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু রহিমা দেখেন, স্বপ্নের ভিতে ইট পড়ছে!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন