শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:২১:৩৮ এএম

প্রশ্নফাঁসে নোবেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা!

খোলা কলাম | ঢাকা | বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৩৯:০৩ পিএম

সারওয়ার-উল-ইসলাম: মানুষের যখন শরীর খারাপ হতে শুরু করে তখন চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলতে থাকে। স্বজনরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে কোথায় ভাল চিকিৎসক আছে, যার কাছে গেলে একটা উপায় বের হবে, ভাল ট্রিটমেন্ট পাওয়া যাবে। মোদ্দা কথা অসুখ সেরে যাবে। একের পর এক চিকিৎসক পরিবর্তন করতে করতে শেষমেশ এমনও হয়, কবিরাজের দ্বারস্থ হতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। কারণ একটাই, সুস্থ করার প্রাণপণ চেষ্টা।

আমাদের এবারকার এসএসসি পরীক্ষার ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ওই বিষয়টাই মনে হল। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা মনে করছে পরীক্ষা শুরুর সাতদিন আগে থেকে সারাদেশের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। সুতরাং কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হোক। এতে করে কিছু অভিভাবক ও কোচিং ব্যবসায়ীদের মনোবেদনার কারণ ঘটেছে। ঘটুক, তবু প্রশ্ন ফাঁস তো বন্ধ হবে। হয়েছে কি? উত্তর: হয়নি। তা হলে?

পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে নির্দেশ দেওয়া হল। এতে করেও যদি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা যায়। হয়েছে কি? উত্তর: হয়নি। তা হলে?

এরপর কেন্দ্র সচিব ছাড়া বাকি সবার জন্য কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হল। তাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে কি? উত্তর: হয়নি। তা হলে?

এরপর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করতে বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হল, যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা যায়। হয়েছে কি? উত্তর: হয়নি। তা হলে?

শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করলেন প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তাতেও যদি দুষ্টচক্র ভয়ে ওই কাজ থেকে দূরে থাকে। তাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে কি? উত্তর: হয়নি। তা হলে?

সর্বশেষ প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সরকার দেশের ইন্টারনেটের গতি ধীর করার মত হাস্যকর বিষয়টি ঘটালেন। অবশ্য পরে প্রত্যাহার করেন।

কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অর্থাৎ রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। রোগ সারানোর সকল পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কারা যেন বলেছেন, প্রশ্নপত্র না ছাপিয়ে হলের ভেতর বই খুলে প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। তাতে নাকি লাভ হবে। আমাদের নব্য শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সাহেব বলেছেন, আগামীতে এমসিকিউ তুলে দেবে। তাতে নাকি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে। ভাল কথা। আমরা ততদিন অপেক্ষায় থাকি।

এখন কথা হচ্ছে, এই যে একের পর এক বা ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে, তাতে কি বিন্দু পরিমাণ লজ্জা বা শরমিন্দা হওয়া দরকার না আমাদের শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের? উল্টো মাঝে মাঝে শোনা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। জলের মত পরিষ্কার ঘটনাকে কেউ যদি ঢেকে রাখার চেষ্টা করে তা হলে তার মত বোকা কি আর গাছে ধরে? একবারের জন্য এ ব্যাপারে অনুতপ্ত হতে দেখা গেল না।

ইতোমধ্যে আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি কিছু সংখ্যক অপরাধীকে ধরা হয়েছে। কিন্তু নাটের গুরু কেউ ধরা পড়েনি।এই নাটের গুরুরা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থাকে। দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি তো দূরের কথা। আরও তিন চারটা পরীক্ষা এখনও বাকি আছে। দেখা যাক, অন্তত একটা পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস থেকে রেহাই পায় কিনা। তাতে যদি মান সম্মান কিছুটা রক্ষা হয়! আর যদি রেহাই না-ই পায় তা হলে আগামীতে নোবেল কমিটিকে বলা যেতে পারে -ভাই আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নোবেল দেয়া যায় কিনা একটু ভেবে দেখবেন। আমাদের বোধোদয় আর কবে ঘটবে? শরীরের অবস্থা এমন যে, আর বোধ হয় বাঁচানোর কোনো রাস্তাই নেই।  
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। লেখকের মতামত সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন