সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৩:৫৪:২৪ পিএম

খালেদা জিয়া গ্রেফতারে যে ৪টি কারণে খুশি বিএনপি

জাতীয় | বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:০৩:৫৮ পিএম

বেগম জিয়ার কারাজীবনের এক সপ্তাহ পূর্ণ হলো। চটজলদি তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন কিনা এনিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ বিএনপির নেতৃবৃন্দের। কিন্তু তারপরও বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সময় লাগলেও বেগম খালেদা জিয়া আইনি লড়াইয়ে মুক্তি পাবেন এবং তার ‘মুক্তি’ই হবে রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। টুক টাক কিছু গা গরমের কর্মসূচি রাখলেও বিএনপি নেতারা এখনই চূড়ান্ত আন্দোলনে অনাগ্রহী। অনেক বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, বেগম জিয়ার কারাবরণে তাঁরা প্রকারন্তরে খুশি।

বিএনপির খুশি হবার কারণ একাধিক। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য মনে করেন, ‘বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়েছে। মানুষের সহানুভূতি তাঁর প্রতি বেড়েছ।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ দাবি করেছেন, ‘যতই বিএনপির চেয়ারপারসনের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে; ততই তিনি জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করছেন।’ বিএনপি মনে করছে, বেগম জিয়ার এই ‘জনপ্রিয়তা’ আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য আর্শীবাদ হবে।

বিএনপির খুশির দ্বিতীয় কারণ হলো সাংগঠনিক। ২০১৪ থেকে বিএনপির কর্মসূচি ছিল প্রেসক্লাব আর টকশোতে বন্দী। মাঝে মধ্যে জিয়ার কবর জিয়ারত ছিল তাদের একমাত্র আউটডোর কর্মসূচি। বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের পর ছোট পরিসরে হলেও বিএনপি রাস্তায় কর্মসূচি করতে পারছে। বিএনপির নেতারা মনে করছেন, এর ফলে নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হচ্ছে। বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম খান মনে করেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি একটি সংগঠনের প্রাণ। কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই একটি দল শক্তিশালী হয়।’ ওই নেতা মনে করেন, ‘বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করছে।’ বিএনপির একাধিক নেতাই মনে করছেন। বিএনপির কর্মীরা এখন উজ্জীবিত। এটা আন্দোলন বা নির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিএনপির খুশির তৃতীয় কারণ হলো সংগঠন হিসেবে তাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি। অনেকেই ভেবেছিল বেগম জিয়া গ্রেপ্তারের সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি সন্ত্রাস, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোঁড়াও শুরু করবে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি যথেষ্ট সংযমের পরিচয় দিয়েছে। সহিংস রাজনীতির বদলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ বেছে নেয় দলটি। বিএনপি নেতারা মনে করছেন এর ফলে ‘বিএনপির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ এবং ২০১৫ তে সহিংস রাজনীতির যে কালিমা দলটির গায়ে লেগে ছিল, তা এবার ধুয়ে মুছে গেল। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি যে আমরা সন্ত্রাস ও সহিংসতায় বিশ্বাস করি না।’

বিএনপির খুশির চতুর্থ কারণ হলো আওয়ামী লীগ। বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের পর উল্লসিত আওয়ামী লীগ ‘নির্ভার’। আবার ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন হবে মনে করে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে এসেছে। দলীয় কোন্দলও বেড়েছে। এর ফলে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে আওয়ামী লীগ দ্রুত জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বলেও বিএনপি মনে করে। আওয়ামী লীগের এই উদাসীনতা বিএনপির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তাই, বেগম জিয়ার জন্য রাস্তায় আর্তনাদ করলে ভেতরের চাপা উল্লাস মাঝে মধ্যেই বেরিয়ে আসছে বিএনপি নেতাদের।-বাংলা ইনসাইডার

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন