সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪২:৩০ এএম

রাবি অধ্যাপককে লাঞ্চিতের প্রতিবাদে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে ৩ ঘন্টা অবরোধ

মো: নুরুজ্জামান | শিক্ষাঙ্গন | বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৩৩:২০ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল কলে হাসপাতালের (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক শারিরীকভাবে লাঞ্চিত হবার ঘটনায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর পৌনে দুইটা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন করতে থাকেন। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার রাতে মারধরের শিকার ওই শিক্ষকের নাম এটিএম এনামুল জহির। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

এটিএম এনামুল জহিরের বরাত দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি তার মেয়েকে দেখতে ৩০ নং ওয়ার্ড দিয়ে যাচ্ছিলেন এনামুল জহির। এসময় ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মেরি প্রিয়াংকার সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এতে ওই নারী চিকিৎসক তাকে গালাগালি শুরু করলে এনামুল জহির তাকে ‘ননসেন্স’ বলে মন্তব্য করেন। পরে প্রিয়াংকা মোবাইল ফোনে বিষয়টি আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক কামালকে জানায়। পরে কামাল কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিয়ে ৩০ নং ওয়ার্ডে যায়। এবং সেখানে তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে ঘটনাটি জানতে পেরে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) গোলাম মোস্তফা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

তবে মেরি প্রিয়াংকার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থেকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দিকে যাচ্ছিলাম। এসময় ওই শিক্ষকের সাথে ধাক্কা লাগে। আমি উনাকে বলি, ‘আপনি দেখে চলবেন না?’ তখন তিনি আমাকে ননসেন্স বলেন। আমি বলি, আপনি কি বললেন? তখন তিনি আবারো আমাকে ‘ননসেন্স’ ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেন। পরে প্রতিবাদ করলে তিনি আবারও গালি দেন। এসময় আমার বন্ধুরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং সরি বলতে বলেন। এসময় তিনি আইনের অধ্যাপক বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে সরি বলতে অস্বীকৃতি জানান।’
তবে এ বিষয়ে এনামুল জহিরকে ফোন দেয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগত জানান।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের দ্রæত গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে আইন বিভাগের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ফলে রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান প্রক্টরিয়াল বডির সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও শিক্ষার্থীরা দোষীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গিয়ে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেও তারা তাতে কর্ণপাত না করে আন্দোলন চালিয়ে যান। দুপুর পৌনে দুইটায় প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ তুলে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সিনের ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জানাতে থাকেন।

ভুক্তভোগী এনামুল জহির শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার আহ্বান করলেও শিক্ষার্থীরা না শোনায়, তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে প্রধান ফটক থেকে চলে যান।

মারধরের বিষয়ে কথা বলার জন্য এনামুল জহিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্যানার নিয়ে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা আশ্বস্তও হয়েছে। কিন্তু মহাসড়ক ছেড়ে ভেতরে আসছে না। আমি ক্লান্ত, তাই ব্যানার নিয়ে চলে এসেছি। এর বেশি কিছু নয়।’

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সাথেই আছি। তাদেরকে আশ্বস্ত করে আন্দোলন শেষ করার জন্য বলছি। তাদের দাবিগুলো আমরা যথাসম্ভব পূরণের চেষ্টা করবো- এই আশ্বাস দেবার পর তারা মহসড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে।’

উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এটা সম্পূর্ন আইনি প্রক্রিয়া। ভুক্তভোগী শিক্ষক যদি মামলা করেন সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোন সহায়তার দরকার হলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন