সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৪:৫৮:২২ পিএম

সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি

জাতীয় | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:১৩:৪১ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ফের তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর বাইরে দলটি ঢাকার সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে একটি সমাবেশ করতে চায় বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ঢাকায় সমাবেশ করতে চাই। এ সমাবেশ কবে করব দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেবে বলে আশা করছি। আগামী ২২শে ফেব্রুয়ারি পরবর্তী এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিন দিনের নতুন কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশে গণস্বাক্ষর অভিযান, ১৮ই ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সব জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ২০শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া অন্যান্যবারের মতো ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে বিএনপি।

খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রথম দফায় গত ৯ ও ১০ই ফেব্রুয়ারি দুইদিন সারা দেশে বিক্ষোভ করে বিএনপি। এরপর টানা তিনদিনের কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে গত সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন, মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করে দলটি।

দুই দফা টানা কর্মসূচি শেষে দুইদিন বিরতি দিয়ে আবার বিক্ষোভসহ তিনদিনের নতুন কর্মসূচি এলো দলটির পক্ষ থেকে। এদিকে খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের সত্যায়িত কপি না পাওয়া যাওয়ায় এখনও আদালতে তার জামিন আবেদন হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা, ভুয়া ও জাল নথি তৈরি করে সাজানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার প্রতিবাদে এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি। আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আমরা শান্তি চাই, আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা দেশে একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করতে চাই।

তিনি বলেন, যে অবস্থার মধ্যে আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এ লক্ষ্যেই আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছি। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের নীল-নকশার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া এবং তাকে পুরান ঢাকার ‘পরিত্যক্ত’ কারাগারে রাখা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শুনেছি, অতীতে মধ্যযুগে যে ধরনের কারা নির্যাতন করা হতো, বৃটিশ ঔপনিবেসিক আমলে স্বদেশি আন্দোলনকারীদের যেভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো, তার চেয়ে কোনো অংশে কম যন্ত্রণা ও নির্যাতন আজকে এই মহান নেত্রীকে করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আগে আমাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। সরকার নীল-নকশা করছে যাতে খালেদা জিয়া ও বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করতে এবং নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার নীল-নকশা অনুযায়ী বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের এমনভাবে মামলায় জড়ানো হচ্ছে তাতে মামলা চালাতেই নেতাকর্মীদের সারা জীবন শেষ হয়ে যাবে।

ফখরুল আরো বলেন, আরো নীল-নকশা হচ্ছে, নতুন আদালত সৃষ্টি করা হচ্ছে। একটা মামলাকে ভেঙে দুইটা করা হয়েছে। বিস্ফোরকের জন্য একটা মামলা, ভাঙচুরের জন্য আরেকটা মামলা। অর্থাৎ বিরোধীদল যারা করবে তাদের এই মামলা করতে করতেই সারাটা জীবন চলে যাবে, মৃত্যুবরণ করতে হবে এই মামলা ফেইস করতে করতে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চায় এবং আগামী নির্বাচনে তারা আবার জয়ী হতে চায় বলে এই ভয়াবহ নির্যাতনের অবস্থা তৈরি করেছে। সরকার বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। কোথাও কোনো স্পেস দিচ্ছে না। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমাদের কর্মসূচি ছিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত। অথচ বেলা ১টার মধ্যে শেষ করতে হয়েছে সরকারের চাপে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট কোথাও বিএনপিকে প্রোগ্রাম করতে দেয়া হচ্ছে না দাবি করে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি সব থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আলোচনা সভা করতো। এখন তারা আমাদের ভাড়া দেয় না। একই অবস্থা জাতীয় প্রেস ক্লাবেও। পেশাজীবী সংগঠনগুলো যদি রাজনৈতিক হয়ে যায় তাহলে মানুষ কোথায় যাবে। আমি বলবো দয়া করে সবার প্রতি সমান আচরণ করুন। অন্যথায় এর ফলাফল ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি থেকে সারা দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে নাশকতার জন্য গ্রেপ্তর করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কর্মসূচি তো শান্তিপূর্ণ, সেখানে নাশকতার প্রশ্নই আসে না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি খালেদা জিয়ার নামে থাকা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে তাকে মুক্ত করুন।

সরকারকে নির্বাচনের অনুকূল পরিবশে সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন, যাতে বিএনপি নির্বাচনে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব পেশাজীবী ও সুশীল সমাজকে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ। -এমজমিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন