মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ০৪:২১:২৫ এএম

সব দলকে সিটি নির্বাচনে চায় নির্বাচন কমিশন

জাতীয় | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৫৭:০৩ এএম

আগামী মার্চ-এপ্রিলে পাঁচ সিটি নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হচ্ছে। ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ও দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচন আটকে যাওয়ার পর সময়মতো পাঁচ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংসদ নির্বাচনের আগে সিটির ভোটে বিএনপিসহ সব দলকে রাখতে চায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না তা পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন।

সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। অবশ্যই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে।আমরা সব সময় বলছি নিরপেক্ষ থাকব। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল একই সুযোগ-সুবিধা পাবে। আমরা তো প্রত্যাশা করব সব দল নির্বাচনে আসুক।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু মুখেই সব দলকে ভোটে চাইলে হবে না, কার্যকর উদ্যোগও নিতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য কীভাবে সমান সুযোগ থাকবে তা পরিষ্কার করতে হবে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটির ভোট করে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়। তারা সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে এপ্রিলে গাজীপুর এবং মে-জুনের মধ্যে রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট সিটিতে ভোটের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে গাজীপুরসহ পাঁচ সিটিতে একসঙ্গে ভোট করার কথাও ভাবছে কমিশন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ ও গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের জন্য ১৩ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছে কমিশন। এ ছাড়া আটকে থাকা ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভোটও হবে মার্চের শেষ সপ্তাহে। তাই দুই উপনির্বাচন এবং অন্যান্য ছোট নির্বাচনের পাশাপাশি সিটি নির্বাচনের জন্য কাজ করছে তারা।

জানা গেছে, নভেম্বরের মাঝামাঝিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইসি। তবে এর আগে পাঁচ সিটি এবং আটকে থাকা পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনও শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে চলতি বছর জুনের মধ্যে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে লড়াই হবে পাঁচ সিটির ভোটের মাঠে। জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবে প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সবার নজর থাকছে সিটির ভোটের দিকে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। সিটি নির্বাচন নৌকা-ধানের শীষের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। জনগণের কাছে কোন প্রতীকের কেমন কদর তাও প্রমাণ হবে এ নির্বাচনে।

তাই সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ করছে প্রধান দুই দল। সেই সঙ্গে দুই দল তার শরিকদের সঙ্গেও চালিয়ে যাচ্ছে আলাপ-আলোচনা। ভোট টানার চেষ্টায় মরিয়া দুই দল। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দলভিত্তিক সিটি নির্বাচনে মে-জুনের মধ্যে ভোট গ্রহণের লক্ষ্য ধরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এর সিডি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। গাজীপুরের ভোটও এপ্রিলের মধ্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। মে-জুনে বাকি চার সিটি করপোরেশন এক দিনে করা যেতে পারে আগের মতোই। আবার পাঁচ সিটির নির্বাচন একসঙ্গে করার প্রস্তাবও দিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের অগ্রাধিকারমূলক কাজের চাপ থাকবে; নভেম্বর-ডিসেম্বরে তফসিলের আয়োজন চলবে। সে ক্ষেত্রে জুনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে সিটি নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে।

এর আগে ২০১৩ সালের জুনে এক দিনে রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং জুলাইয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোট হয়েছে। সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকাল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে ভোট করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

পাঁচ সিটির নির্বাচনের দিনক্ষণ : গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। ৮ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। ১৩ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। ৩০ মার্চ নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাজশাহী সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন।

প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বরিশাল সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। ২৭ এপ্রিল নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৩ অক্টোবরের মধ্যে করতে হবে নির্বাচন। -বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন