সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৫:১২:০৭ পিএম

রিমির জাল সইয়ে কাপাসিয়ায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ!

জেলার খবর | ফরিদপুর | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৫৭:৪১ এএম

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সাংসদের সই জাল করে প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ আনার অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমিকের দশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার কাপাসিয়ার (গাজীপুর-৪) সাংসদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি উপজেলার ডাকবাংলোতে এমন অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠির মাধ্যমে (স্মারক নং ৩২২) তাকে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

ওই চিঠিতে জানানো হয়, ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সিমিন হোসেন রিমি এবং দশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর দফতর বরাবর পাঠানো হয়। পরে তা চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি গৃহীত হয়। তাতে বিদ্যালয় গুলোর উন্নয়নের জন্য অর্থ চাওয়া হয়।

পরে তিনি বৃহস্পতিবার স্থানীর প্রশাসন, সাংবাদিক, রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ এবং ওইসব বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে ডেকে কোন ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) লেটার দেওয়া হয় নি এবং তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে জানান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হল- উপজেলার বীরউজলী উচ্চ বিদ্যালয়, আড়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়, সোহাগপুর আলীম মাদরাসা, চরদুর্লভ খা মনিরুল উলুম মাদরাসা, টোকনগর দারুল হালিম মাদরাসা, ইসলাম তাজ বালিকা মাদরাসা, সুলতানপুর মামনিয়া বালিকা দাখিল মাদরাসা, দিঘাব আঞ্জাবীয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা ও আড়ালিয়া কেরামতিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা।

বীরউজলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ জলিলের ভাষ্য, তিনি আজই বিষয়টি জেনেছেন। তার স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে। এমপি মহোদয় চিঠির কপি দিয়ে তাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রকিব হাসান বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ আসলে তা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে চলে যায়। বিষয়টি আমার জানা নেই।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বরাদ্দের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, কি ব্যবস্থা নিব? বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

পরে সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে সঠিক তথ্য আমার কাছে নেই। তিনি (রিমি) একটি সভায় থাকার কারনে হয়তো ফোন রিসিভ করছেন না। আমি আজ ওনার সঙ্গে নেই।

-পূর্বপশ্চিবিডি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন