শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ ০২:২৯:২৮ পিএম

বিএনপি এতো ‘শান্ত কেন?

রাজনীতি | শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮:১৬:২২ পিএম

গেলো ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় হয়। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হয়েছে। এছাড়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২ কোটি টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদে বিএনপি এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিক্ষোভ করেনি। দলটির সব কর্মসূচিই এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ। পুলিশ ও সরকারের নির্দেশনাতেই প্রতিবাদ করছে দলটি। কিন্তু কেন এই অহিংস আচরণ?

রায়ের পর বিএনপিকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ-মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান-অনশন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।

এসব কর্মসূচিতে পুলিশ কোথাও কোথাও বাধা দিলেও সংঘর্ষে হয়নি।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপির কর্মসূচিতে যেভাবে সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়। পেট্রোল বোমা, ককটেলসহ সংঘাতে নিহত হয় শতাধিক মানুষ। তাতে সমালোচনার কবলে পড়ে দলটি। জনপ্রিয়তায় ধসও নামে। শেষপর্যন্ত নির্বাচন ঠেকাতেও পারেনি বিএনপি। এরপর থেকেই কর্মসূচি দিতে সতর্ক থাকে দলটি। এমনকি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হলেও সংযত কর্মসূচি দেয় দলটি।

কারণ হিসেবে দলটির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখেই এমনটা করছেন তারা। কোনোভাবেই নির্বাচনের রোড থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না বিএনপি। আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন হারাবে দলটি। একইসাথে রাজনীতির মাঠে অনেকটাই ব্যাকফুটে পড়ে যাবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দলটি।

রায়ের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকারই আভাস দিয়ে বলেছিলেন, গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলছেন, বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, উচ্ছৃঙ্খলতায় বিশ্বাস করে না। সরকার প্রায় উসকানি দিচ্ছে, তবে আমরা ফাঁদে পা দিচ্ছি না। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই প্রতিবাদ দেশে বিদেশে সর্বত্রই প্রশংসিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, অসহিংস আন্দোলনের নির্দেশনা দিয়েছেন ম্যাডাম নিজেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও আমরা নিজদের অবস্থান জানাচ্ছি। যোগাযোগ বাড়াচ্ছি। এরই মধ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে নির্বাচন দিবে বলে আমরা আশাবাদী।

সূত্রঃ আরটিভি অনলাইন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন