বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:৪১:২৭ পিএম

‘ভবণ নির্মাণে নকশা মানা হচ্ছে না’

জাতীয় | রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৪:২৩:০৮ পিএম

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে, সেই নকশা অনুযায়ী ভবণ নির্মান করেন না অনেকেই। যে কারণে রাজধানীতে ভূমিকম্প হলে ঝুঁকি ও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এজন্য রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

রোববার হোটেল রেডিসন ব্লুতে আরবান রিসিলেন্ড প্রোজেক্ট (রাজউক) আয়োজিত `রিসেন্ট আর্থকুয়েক রিলিটেড রিসার্জ অ্যান্ড একটিভিটিস ইন বাংলাদেশ` শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। তাই এর ক্ষতি মোবাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। ভূমিকম্পে ক্ষতি মোবাবেলায় যারা বিল্ডিং বানাচ্ছেন তাদের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া বেশি জরুরি। পাশাপাশি তারা ইমারত নির্মাণ বিধি মেনে বিল্ডিং বানাচ্ছেন কী না তা তদারকরি করা দরকার।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমিকম্পের দিক থেকে আমাদের দেশ অনেক ঝুঁকিতে আছে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর বিল্ডিংগুলোর ক্ষেত্রে ভবন মালিকরা অথবা বিল্ডিং নির্মানকারীরা ইমারত নির্মাণ আইন মেনে চলেন না। এ জন্য ভূমিকম্প হলে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাবে। তাই সবার জান-মালের কথা চিন্তা করে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে বিল্ডিং তৈরি করা উচিত। এসব দুর্যোগ মোকাবেলা বা দুর্যোগে ক্ষতি এড়াতে শুধু সরকার বা আইন করেই সবকিছু ঠিক করা সম্ভব না এজন্য সবাইকেই সচেতন হতে হবে।

সেমিনারে অংশ নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে ( রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুর রহমান বলেন, আমরা পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। সে অনুযায়ী গুলশান, বনানী, উত্তরায় আমরা কাজ করেছি। পূর্বাচল, ঝিলমিল প্রকল্পে, গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন কাজ চলছে। অন্যদিকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি-ক্ষতির পরিমাণ কমাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ডিজিটাল বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানো, রিচার্জ-ট্রেনিং বিল্ডিং গড়ে তোলা হবে।

স্থাপতি মোবাশ্বর হোসেন বলেন, ভূমিকম্প হলে আমাদের কী করণীয় হবে এ বিষয়ে ভীত আমি। কারণ ঢাকা শহরে যেভাবে মাকরশার জালের মতো গ্যাসের লাইন আছে, বিদ্যুতের লাইন আছে একবার ভূমিকম্প হলে এগুলোর কি অবস্থা দাঁড়াবে এটা নিয়ে আমি ভয়ে থাকি সবসময়। প্রতিটি বাসায় বিদ্যুতে তাও একটা মেইন সুইচ আছে তার মাধ্যেমে বিদ্যুৎ বন্ধ করা যেতে পারে কিন্তু গ্যাসের লাইন বন্ধ করার কোনো সুইচ নেই। একবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল গ্যাসের লাইনে সেন্সর লাগানোর কিন্তু আজও তা বাস্তয়াবায়ন হয়নি। এগুলো বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

সেমিনারে কি নোট উপস্থাপন করেন ইউআরপি প্রোজেক্টের (রাজউক অংশ) পরিচালক আব্দুল লতিফ হেলালি, বুয়েটের অধ্যাপক রাকিবুল হাসান, অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারি।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি জামিলুর রেজা চৌধুরী, ওয়াল্ড ব্যাংকের প্রতিনিধি স্বর্না কাজী, ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট রাজউক সদস্য শামসুদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন