সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ ০৫:১২:১০ এএম

শাবিতে অর্ধনগ্ন করে রাতভর র‌্যাগিং!

শিক্ষাঙ্গন | সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:২৫:৪৯ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) সিনিয়র শিক্ষার্থী দ্বারা অন্তত ছয় নবীন শিক্ষার্থীকে অর্ধনগ্ন করে রাতভর র‌্যাগিং দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তাদেরকে নিজ মেসে ডেকে নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটায়।

এসময় তাদের কথা না শোনায় কয়েকজনকে মারধরসহ শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। মারধর ও অর্ধনগ্নতার শিকার এইসব শিক্ষার্থীরা এখন প্রচণ্ড রকমের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিষয়টি কাউকে জানালে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হুমকির ভয়ে তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেও আগ্রহী নয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের ছয় নবীন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকস্থ তপোবন আবাসিক এলাকার একটি মেসে নিয়ে যান বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরিচয়ের নামে তাদেরকে রাত ১০টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত আটকে রাখে তারা।

এক পর্যায়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মারধর করেন সিনিয়ররা। পরবর্তীতে তাদেরকে বাধ্য করে অর্ধনগ্ন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অশ্লীল ক্যাপশন দিয়ে একটি গ্রুপে পোস্ট করানো হবে এবং বেশ কিছু সময় পরে ডিলিট করা হয়। বিষয়গুলো কাউকে জানানো হলে আবারো মেসে ডেকে নেওয়া এবং শিক্ষাজীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেয় তারা।

ভুক্তভোগী কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রচণ্ড রকমের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ নিয়ে তারা কারো সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে তারা এখনো প্রশাসনের কাছে কোনো ধরণের অভিযোগ জানায়নি। যেসব আশা নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছেন সিনিয়রদের এ ধরণের ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আশা মিটে গেছে বলেও জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সিভিল এন্ড ইনভায়রনমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ১৯জন এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের একই বর্ষের ১জন শিক্ষার্থী এ ঘটনার সাথে জড়িত। এদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষার্থী মারমুখি ও হিংসাত্মক ভূমিকায় ছিল বলে জানা যায়।

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের উপর জিরো টলারেন্স আরোপ করা আছে। র‌্যাগিংয়ের সাথে জড়িত কাউকে কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিতির নামে কোনো ধরণের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন মেনে নেওয়া হবে না। অতি শিগগিরিই শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল এন্ড ইনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমেদ বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন