শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:৫৪:৪৭ পিএম

‘তারেক বিএনপির বোঝা, বিকল্প নেতৃত্ব দরকার’

রাজনীতি | সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১:১৩:০৫ পিএম

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির জন্য বোঝা হিসেবে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নুরে আলম সিদ্দিকী। বিএনপিকে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে বলে বলেও মনে করেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই নেতা।

রোববার রাতে চ্যানেল আইয়ের টক শো ‘তৃতীয় মাত্রা’য় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জিল্লুর রহমানের উপস্থাপনায় একমাত্র অতিথি নুরে আলম সিদ্দিকী সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসনকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরপর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।

তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে আছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকেও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর আগে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। এছাড়াও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি তারেক রহমান।

নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপিকে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব খোঁজা উচিত। কারণ তিনি বিএনপির জন্য বোঝা। তাদের খোঁজা উচিত দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। তারেকের তো দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড হযেছে। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে।’

ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি এখন একটা ঘোরের মধ্যে আছে। বিএনপি এখনো প্রচণ্ড অহমিকায় আছে। তারা বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে এমন একজনকে বেছে নিয়েছে যিনি তারেক রহমান। তার প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোনো বিদ্বেষ নেই। ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। কিন্তু তিনি যখন হাওয়া ভবন নিয়ন্ত্রণ করতেন তখনই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। হাওয়া ভবন থেকে তখন সচিবালয় নিয়ন্ত্রণ করা হতো।’

নুরে আলম বলেন, ‘তিনি (তারেক) দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে আছেন যেকোনো কারণেই হোক। বিএনপি নেতাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আপনারা তারেক রহমানকে ইতোমধ্যে বিকল্প নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তিনি এত বছর বিদেশ আছেন, সেখানে কী করছেন? এত বছরে তো তিনি কমপক্ষে ব্যারিস্টার হতে পারতেন। অন্তত কিছু প্রকাশনা জাতিকে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি দেশের রাজনীতিকে উস্কানো ছাড়া আর কী দিতে পেরেছেন? আমার মনে হয় তার নেতৃত্বে কোনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।’

সাবেক এই সাংসদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মহলেও তারেক রহমান কোনো কনফিডেন্স দাঁড় করাতে পারেননি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি যারা পর্যবেক্ষণ করেন তাদের কাছে তিনি কোনো সুনাম প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। শাসক হিসেবেই বলুন, নেতৃত্ব দিয়েই বলুন আর জনগণের আস্থা অর্জনের দিক দিয়েই বলুন।’

খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া কারগারে আছেন এটা কোনো বিস্ময়কর ব্যাপার না। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। জিয়া অরফানেজের টাকা তিনি মেরে খেয়েছেন কি না এ ব্যাপারে চূড়ান্ত মত দেয়ার সময় এখনো আসেনি। কারণ আরও দুটি আদালতে এই মামলাটি যাবে। উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় দেবে।’

নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘তবে এটা নিয়ে অনেকে হৈ-হুল্লোড় শুরু করে দিয়েছে, এতে আমার কষ্ট লাগে। আমরা যে এত জেল খেটেছি, ফাঁসির সেলে পর্যন্ত আমাদের রাখা হয়েছে, আমাদের এটার কি কোনো মূল্যই নেই। খালেদা জিয়াই কি প্রথমবারের মতো জেলে গেছেন?’

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি দুইবার পূর্ণ টাইমে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কতদিন সংসদে গেছেন। কতদিন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে কী ভূমিকা রেখেছেন? আসলে তিনি গণতান্ত্রিক মানসিকতার নন। ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া দলের নেত্রী হিসেবে এর একটা আবহ তার মধ্যে রয়ে গেছে। আর তিনি একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে এসে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।’

নুরে আলম বলেন, ‘বিএনপিকে অবশ্যই আগামী নির্বাচনে আসা উচিত। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে না পারলেও আসা উচিত। খালেদাকে নির্বাচনে রোধ করা যাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু তারেক রহমান কতটুকু সাহস দেখাতে পারেন তা বলা যায় না।’

ক্ষমতাসীনদেরও কড়া সমালোচনা করেন বঙ্গবন্ধুর অন্যতম এই সহচর। তিনি বলেন, ‘যারা ক্ষমতাসীন হন তারা ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবেন না ক্ষমতা থেকে যেতে হবে। তারা মনে করে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এটা সব সরকারই মনে করেছে। জনগণ যত দীর্ঘশ্বাসই ফেলুক তাদের ক্ষমতা আর কোনোদিন যাবে না বলে মনে করে।’

দুই নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা দুই রমনীর কাছে আজ সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত। একজন ক্ষমতায় এসে যতভাবে পারা যায় মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করছেন। যতভাবে পারা যায় রাজনৈতিক অধিকারকে বিনষ্ট করছেন। বিচারিক ব্যবস্থাকেও প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছেন। প্রশাসনকে সূর্য গ্রহণের মতো গ্রাস করে ফেলেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনটাকেই বিকলাঙ্গ করে ফেলা হয়েছে। দলে যোগ্য লোকদের নেতৃত্ব লাভের কোনো ব্যবস্থা রাখেননি। তিনি যাহা ইচ্ছা তাহাই করেন।’

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক মনে করেন, দেশের মানুষ সরকারের ওপর ত্যক্তবিরক্ত, যেকোনো সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়ে যাবে।

সত্যিকার অর্থে জনগণকে জাগ্রত করতে পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। এজন্য বিএনপিকে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে আসা উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই সাংসদ।-পূর্বপশ্চিমবিডি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন