বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১০:০৬:২৫ এএম

নির্বাচন নিয়ে ইসির সামনে যত চ্যালেঞ্জ

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০২:১১:৫৪ এএম

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চ্যালেঞ্জ হলো কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা ফেরানো এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশন আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করে দলগুলোর কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পারবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসির আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সামনে। এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলকে আনাটাই ইসির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে।

এ ছাড়া সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন হবে; সে ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে তৈরি হচ্ছে, এখন থেকেই জনগণকে সেই মেসেজ দিতে হবে। জনগণের মনে এ আস্থা তৈরি করতে হবে যে, কমিশনের ভূমিকা ইতিবাচক। এ ছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রশাসনের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ রাখা মূল চ্যালেঞ্জ হবে।

বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় বিদেশিরাও সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে আসছেন। গত বুধবার নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক শেষে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্টও এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকার কথাই জোর দিয়ে বলেন। ল্যামবার্টও বলেন, তারা ইসিকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেন নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশ নেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।

এদিকে সব দলের অংশগ্রহণে বছর শেষে একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে একটি ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করে তা ধরে কাজ করে যাচ্ছে ইসি। তার আগে বছরের মধ্যভাগে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হবে তাদের। কিন্তু এর মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি জানিয়ে আসা বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব আরও বেড়ে গেছে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে।

বিএনপি বলছে, তাদের নেত্রীকে ভোট থেকে বাদ দিতেই ‘পরিকল্পিতভাবে’ সাজার এ রায় দেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আদালতের কাজে তাদের কোনো ‘হস্তক্ষেপ’ নেই। নির্বাচনকালীন সরকার কিংবা খালেদার রায় নিয়ে ইসির যে কিছু করার নেই তা সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনাররা বলে আসছেন।

ইসির ভাষ্য, নির্বাচনের সময় সরকারের ধরন কী হবে তা সংবিধানে থাকবে, যা ঠিক করবে সংসদ। আর খালেদা জিয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মোর্চা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ। ইসির হাতে যে সময় আছে এর মধ্যে আন্তর্জাতিক মাপকাঠি বজায় রেখে আসনের সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না। এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কেননা সংলাপে যেসব সুপারিশ এসেছে তার সব বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। তাই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে যা প্রয়োজন তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া দরকার। তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচনের সাফল্য আসন্ন পাঁচ সিটি নির্বাচনে ধরে রাখা। চতুর্থ হলো, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা। কেননা সংসদ বহাল রেখে আগামী নির্বাচন হবে। তখন একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে একজন সাধারণ প্রার্থীকে কীভাবে সমান সুযোগ করে দেবে ইসি? এজন্য তারা কী গাইডলাইন দেবে? পঞ্চম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, নির্বাচনী প্রশাসনের ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য অন্যরা দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন সবার জন্য ভালো। অশান্ত নির্বাচন হলে অশান্তির দাবানল ছড়িয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, বিগত নির্বাচন কমিশন অনেকটা বিপর্যয়ে ফেলেছে। এই নির্বাচন কমিশন এখনো আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ ও মূল্যায়ন জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘আমরা সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করছি। আমরা সব কাজকে কাজ হিসেবেই দেখি। কোনো কাজকেই চ্যালেঞ্জ মনে করি না। জনগণ ও ভোটাররাই আমাদের কাজের মূল্যায়ন করবেন।’ --বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন