রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ০৪:৫৮:৩২ পিএম

যা কিছুতে ব্যর্থ শাকিব খান

খেলাধুলা | মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৩:২৪:৪৮ এএম

আদর্শ মানুষ, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা, গ্রহণযোগ্য মেন্টর, সব শ্রেণির কাছে গ্রহণযোগ্যতা, নতুন প্রজন্মের কাছে আইকন। এর একটাও কী হতে পেরেছেন শাকিব খান? বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়ক।

তাকে নাম্বার ওয়ান বলতে কারো কোন দ্বিধা থাকার কথা নয়। বর্তমান সময়ে তার ছবি হলে মানেই সুপারহিট। যার সর্বশেষ প্রমান ‘আমি নেতা হবো’। শাকিবের এই স্থান সে একাই তৈরী করেছে? কখনো কোনো সুপারস্টার বলতে পারবেন না তার স্থান সে একা তৈরী করেছেন।

১৯৯৯ সালে তিনি নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবি দিয়ে। সেটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। তখনই বদলে যায় নামখানা। মাসুদ রানা হয়ে উঠলেন শাকিব খান। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান দিয়েছিলেন শাকিবের এ নাম। এক সাক্ষাতকারে শাকিব নিজেই জানিয়েছেন এ কথা।

শাকিবের জীবনের কিছু বিষয় স্পষ্টই প্রমাণ দেয়, বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান দ্বারা তুমুল প্রভাবিত তিনি। নিজের নাম থেকে শুরু করে ছেলের নামেও শাহরুখের প্রভাব দেখা যায় শাকিবের। তবে আদর্শ, মানবিকতা, মূল্যবোধে শাহরুখের সঙ্গে তার যোজন যোজন দূরত্ব।

মুসলিম হয়েও শাহরুখ ভালোবেসে বিয়ে করেছেন হিন্দু ধর্মের মেয়ে গৌরিকে। শাকিব খানও ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অপু বিশ্বাসকে। তবে শাহরুখ তার স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য কোনো রকম চাপ বা উৎসাহ দেননি। কিন্তু শাকিব খান তার স্ত্রীকে ইসলাম গ্রহণ করতে পরামর্শ, অপুর মতে চাপ দেন এবং তার নাম রাখেন অপু ইসলাম খান।

শাহরুখ তার বসবাসের জন্য মুম্বাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‌‘মান্নাত’ নামে। শাকিব খানও পূবাইলে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‘জান্নাত’ নামে। শাহরুখ খানের কনিষ্ঠ ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান। শাকিব খানও তার একমাত্র ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান।

কিন্তু প্রথমবারের মতো ছেলের মুখ দেখেছিলেন কয়েক মাস পর! শাহরুখের মতো শাকিব তার সুখের সংসার গড়তে পারেননি। বহু সুপারস্টারদের বিবাহচ্ছেদ হয়েছে। সেটা হয়তো কোন বিষয় নয়। কিন্তু শাকিব কী পারতেন না তার সংসার টেকানোর উদ্যোগী হতে?

বিবাহিত হয়েও অনেক তারকা সুপারস্টার খ্যাতিতে কোন কমতি পরেনি। বহু নায়ক আছেন, যারা ক্যারিয়ারের ভয়ে স্ত্রী-সংসার আড়াল রাখেননি। বরং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সন্তানদের নিয়ে আদর-আহ্লাদ প্রকাশ করেছেন ঘটা করেই। আর শাকিব খান ক্যারিয়ারের ভয়ে আট বছর গোপন রেখেছেন বিয়ের খবর।

প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টাররা দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি জয় করেছেন তার অগ্রজ-অনুজ সহকর্মীদেরও মন। নতুন প্রজন্মের তারকারা তাদের আইকন হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। নিজের অদৃশ্য মেন্টর হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু তিন শতাধিক ছবি করা শাকিব খানকে আইকন মেনে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নায়ক বা তারকার সংখ্যা দূরবীন দিয়েই খুঁজে বের করতে হবে।

কেউ কেউ হয়তো শাকিবের পজিশন বা চাহিদার প্রতি মোহ পুষে রাখেন, তবে তাকে মেন্টর হিসেবে মানেন সে কথা এখন পর্যন্ত কোনো তারকার মুখে শোনা যায়নি। সুপারস্টারদের হাত ধরে অনেক নতুনদের আগমন ঘটে ইন্ডাস্ট্রিতে। শাকিব সেক্ষেত্রে কতটা সফল? ক্যারিয়ারে এক অপু বিশ্বাসকে নিয়ে একের পর এক ছবি করেছে।

শেষে এসে বিয়ের খবর। দ্বিতীয় জন হলেন বুবলী। শেষমেষ কী খবর প্রকাশ পায়, সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু এই দুইজন নায়িকাকে সুযোগ দিতে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকে অনেক নায়িকার সুযোগই নষ্ট করেছেন। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ‘নায়ক শাকিব’ মুডের কথা কারো অজানা নয়। অথচ কথায় আছে যত বড় হন, তত নুইয়ে পড়ুন।

শাকিবের নিজের পরিবারের খবরও বা কয়জনে জানে? শাকিব খানের পরিবার সম্পর্কে তার ভক্তরা তেমন কোনো তথ্য জানে না বললেই চলে। তিনি জনপ্রিয়তা পেলেও তার পরিবার ও পরিবারের মানুষেরা থেকে গেছে আড়ালেই। যার কারণে পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের জায়গাটিতে কখনোই শাকিব প্রভাব ফেলতে পারেননি বলে ধারণা অনেকের।

সর্বশেষ তিনি যে কারণে সুপারস্টার। সেই চলচ্চিত্রকে তিনি কী দিয়েছেন? শীর্ষ নায়ক হয়েও একের পর এক বস্তাপচা ছবি করেছেন। অথচ তিনি চাইলেই বলতে পারতেন এই স্ক্রিপ্টে আমি কাজ করবো না। একই গল্পে আমি বারবার অভিনয় করবো না। সে রোগ তার আজ্যবধি যায়নি। অসংখ্য সংলাপের জন্য তিনি হাস্যরসে পরিনত হয়েছেন। অথচ যখন তার হাতে ক্ষমতা ছিল না। তখন অসংখ্য ভালো ছবিতে অভিনয় করেছেন।

নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার যে চূড়ায় তিনি উঠেছেন, নিজের বিনয় ও মানবীয় গুণগুলোকেও যদি নান্দনিকতার চূড়ায় নিয়ে যেতে পারতেন হয়তো বাংলাদেশ সত্যিই কোন সুপারস্টার পেত। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটা কালজয়ী নাম পেত, যাকে সম্মান করা যায় নত হৃদয়ে। সেটা কী হবে কখনো? -বাংলা ইনসাইডার

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন