শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ ১২:০৩:২৬ পিএম

টমেটোর কেজি মাত্র ১ টাকা!

জেলার খবর | মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৪৮:২৬ পিএম

টমেটোর কেজি মাত্র ১ টাকা! টমেটোর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বাম্পার ফলনের আনন্দ বেদনায় রুপ নিয়েছে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরের টমেটো চাষীদের।

বর্তমানে চাষিরা প্রতি কেজি টমেটো পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন ১ টাকায়।মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি বছর জেলার মাধবপুর উপজেলায় ২৫০ হেক্টও জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২২০ হেক্টর নিধারর্ণ করলেও ফলন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হেক্টর বেশি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ,বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় কিছু কিছু মাঠে এখন ধানের চারা লাগানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার(হিমাগার) না থাকায় ক্ষেত থেকেই চাষিরা টমেটো কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এতে করে বাম্পার ফলন হলেও কম পাচ্ছেন চাষিরা। ফলে টমেটো চাষ করে লসে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। টমেটো চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,প্রায় ১মাস ধরে জমি থেকে টমেটোর তোলা শুরু হয়েছে। প্রথম ২ সপ্তাহ দাম প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা করে পাওয়ায় খুশি ছিল চাষিরা।

কিন্তুু পরের সপ্তাহে ১০ টাকা,এরপর ৭ টাকা নেমে আসে । বর্তমানে টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১টাকা ও উন্নতমানের টমেটো সর্ব্বোচ ২ টাকায় নেমে গেছে। চাষিরা নাম মাত্র মূল্যে টমেটো বিক্রি করছেন। এতে টমেটো বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের কৃষক আবুল খায়ের বলেন,গতকাল রবিবার ক্ষেত থেকে ২ টাকা করে টমেটো বেচতাছি।ধান লাগাইতে টাকা লাগবো,তাই কম দামে বেচন ছাড়া উপায় নাই।

একই ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়া জানান,টমেটো চাষ করে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তুু ভালো দাম পাচ্ছি না। কিস্তিতে টাকা তুলে অন্যের দেড় বিঘা ধার নিয়ে টমেটো চাষ করেছি। টমেটো ভালো হয়েছিল। কিন্তুু টমেটোর দাম খুবই কম। মনে হচ্ছে টমেটো বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। বড়ই চিন্তায় আছি।

মাধবপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অর্ধেন্দু দেব অসিত বলেন,চলতি বছর পর্যাপ্ত সার অনুকুল পরিবেশ পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তুু কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে না।

আমাদের পরামর্শ হল,যদি স্থানীয় ভাবে টমেটো সংরক্ষণাগার করা যায়,অথবা চাষিদের সংরক্ষণ প্রযুক্তিটা বুঝাতে পারা যায় বা সংরক্ষণ করে কিছু দিন পরে বিক্রি করতে পারলে চাষিদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত কোনো আগ্রহী ব্যক্তি টমেটো প্রসেসিং করার জন্য যদি বিভিন্ন খাবার তৈরি করার জন্য এগিয়ে আসেন,তবে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মাধবপুর উপজেলার ৭০ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত ।

এখানে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সবজির চাষ করা হয় হিমাগারের সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন হওয়া এই সবজি কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। মৌসুমে শুধু সংরক্ষণের অভাবে প্রায় বিরাট একটি অংশ সবজি পচে নষ্ট হচ্ছে।মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,একটি হিমাগার স্থাপন করা হলে এই উপজেলার কৃষকরা উপকৃত হবেন। বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে।

গতকাল বুধবার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকদের স্বার্থে কাজ করছে। আশা করি দ্রুতই একটি হিমাগার নিমার্ণ করে সরকার এই উপজেলা বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির বাস্তবায়ন ঘটাবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন