মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৫:০৮:৫৭ পিএম

সবার দৃষ্টি এখন উচ্চ আদালতে

জাতীয় | বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৪:২৭:২৩ এএম

বিদেশ থেকে এতিমদের জন্য আসা টাকা আত্মসাতের দায়ে কারাভোগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে গতকাল হাই কোর্টে আপিল করেছেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে কিনা তা শুনানির জন্য কালকের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। আপিল গৃহীত হলে কালই খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন সহসা মুক্তি পাচ্ছেন, নাকি পাচ্ছেন না— তা জানতে এখন সবার দৃষ্টি উচ্চ আদালতের দিকেই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন বেগম জিয়া। তাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগার ভবনে রাখা হয়েছে।

এদিকে আইনজ্ঞরা বলেন, রায়ের কপি পাওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনও এ মামলায় লড়বে বলে জানিয়ে দিয়েছে। হাই কোর্ট যদি খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়ও তাহলে দুদক নিশ্চয়ই আপিল বিভাগে যাবে। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগ থেকেই আসবে বলে মনে করেন তারা।

হাই কোর্টে দাখিল করা আপিল আবেদনে ৪৪টি যুক্তি দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন খালেদা জিয়া। আপিল দাখিলের পর তা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ম্যানশন স্লিপ (শুনানির জন্য সংক্ষিপ্ত আবেদন) উপস্থাপন করা হয়। আদালত কাল বৃহস্পতিবার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য কার্যতালিকার রাখার আদেশ দেয়।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রস্তুত নন উল্লেখ করে বিষয়টি আগামী রবিবার শুনানির জন্য রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। গতকাল রাতে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, বিষয়টি হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকার ৬ নম্বরে গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

গতকাল বেলা পৌনে ৩টার দিকে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে তার পক্ষে এই আবেদন দাখিল করেন অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান। পরে হাই কোর্টে ম্যানশন স্লিপ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আদালতে এ সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য দিন নির্ধারণের পর বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা আপিল ফাইল করেছি। বৃহস্পতিবার আপিল মঞ্জুর হলে সঙ্গে সঙ্গেই জামিন প্রার্থনা করব। কাল খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ হওয়ার পাশাপাশি তার জামিনও হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, এই মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর সাজা হয়েছে। সাধারণত সাত বছর পর্যন্তও সাজা হলেও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় হাই কোর্ট জামিন দিয়ে থাকে। তবে হাই কোর্ট যদি জামিন দেয়ও রাষ্ট্রপক্ষেরও এই জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করার এখতিয়ার রয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমরাও থাকব আদালতে। আপিল আবেদন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব। হাই কোর্টে আমরা জামিনের বিরোধিতা করব, প্রয়োজনে আপিল বিভাগেও যাব।’

যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল : খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ঠিক হওয়ার পর গতকাল বিকালে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শুধু আপিল গৃহীত হবে কিনা সে বিষয়ে শুনানি হবে। সেটা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি নয়।’

তিনি বলেন, ‘দুদকের মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। এই সাজার বিরুদ্ধে তার পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। এই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি করতে বৃহস্পতিবার দিন রেখেছে হাই কোর্ট।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, যেহেতু ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়, বৃহস্পতিবার না এনে রবিবার আনলে ভালো হয়। সবটা ভালোভাবে দেখে নিতে পারি।’ রায় পর্যবেক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রায় পড়া শুরু করেছি।’

আপিলে খালেদার ৪৪ যুক্তি : বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ৪৪টি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তার আইনজীবীদের মাধ্যমে। আইনজীবীদের উপস্থাপিত আপিলের পক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলকভাবে খালেদা জিয়াকে এ মামলায় সম্পৃক্ত করেছেন।

প্রথম যিনি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন, তিনি খালেদা জিয়াকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা খালেদা জিয়াকে আসামি করে চার্জশিট দেন। আপিলে বলা হয়, ৩৪২ ধারার জবানবন্দিতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। অথচ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন মর্মে সম্মতি হয়ে বক্তব্য দেননি।

তিনি যা বলেছিলেন তা হলো ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে নির্বিচারে গুলি করে প্রতিবাদী মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্র ও শিক্ষকদের হত্যা করা হচ্ছে। এগুলো কি ক্ষমতার অপব্যবহার নয়? ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি? শেয়ারবাজার লুট করে লক্ষ কোটি টাকা তছরুপ হয়ে গেল। নিঃস্ব হলো নিম্ন আয়ের মানুষ। ব্যাংকগুলো লুটপাট করে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে আপিলের যুক্তি হচ্ছে, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি পরে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল। কিন্তু সরাসরি খালেদা জিয়ার বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে বিচারিক মননের প্রয়োগ ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে আদালত।’

আপিল আবেদনে আরও বলা হয়, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে কোন ধরনের অনিয়ম থাকত তার প্রতিকারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। তা কোনোভাবেই দুদক আইনের পর্যায়ে পড়ে না। ট্রাস্টের অর্থ লেনদেনে খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রাষ্ট্রের কোনো টাকা আত্মসাৎ হয়নি। ওই টাকা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।’ -বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন