বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৬:০৪:১৬ পিএম

বিএনপি থেকে কারা যাচ্ছে জাতীয় পার্টিতে?

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৫০:০৯ পিএম

বিএনপি থেকে কারা যাচ্ছে- এরশাদ রাজনীতিতে এক বড় অনিশ্চয়তার নাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিএনপি দ্বৈরথে এরশাদের জাতীয় পার্টি হলো তুরুপের তাস। জাতীয় পার্টি যে দলের দিকে ঝুঁকে, সেই দলই ক্ষমতার কাছাকাছি চলে যায়।

আর এই সুযোগেই রাজনীতিতে এরশাদ এখনো ‘অমূল্য রতন’। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কাছে পেতে চায়। আর এই সুযোগে ৯০ এর স্বৈরাচার জাতিকে গণতন্ত্র শেখান। রাজনীতির নানা নসিহত দেন। এরশাদ মাঝে মধ্যেই বেফাঁস কথাবার্তা বলেন।

তবে তার কথা যে ফেলে দেওয়ার মতো নয়, রাজনৈতিক বোদ্ধারা তা ভালো করেই জানেন। এরশাদ ইদানিং রাজনৈতিক জ্যোতিষী হিসেবেও অবিভূত হয়েছেন। তার অনেক ভবিষ্যতবাণী সত্য হওয়ায় এখন তিনি প্রায় ‘রাজনৈতিক পীরের’ মর্যাদা পেয়েছেন।

যেমন, এরশাদ বলেছিলেন, রংপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হবে। এরশাদের ভবিষ্যতবাণী ছিল, খালেদা জিয়ার জেল হবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। মঙ্গলবার রংপুরে এরশাদ আরেকটি বোমা ফাটিয়েছেন। এরশাদ ভবিষ্যতবাণী করেছেন যে, শিগগিরই নাকি বেশ ক’জন বিএনপি নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন।

আগের দিন হলে, এ নিয়ে হাস্যরস হতো, দুএকটা কৌতুকেরও জন্ম হতো। কিন্তু এখন এরশাদের বক্তব্য কেউ হালকা ভাবে নেয় না। এরশাদ বোমার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন, কেন বললেন একথা? কারা যাচ্ছে জাপায়?

এরশাদ যা বলেন, তা বুঝে শুনেই বলেন। তাই চমক সৃষ্টি করার জন্য এরশাদ এমনটা বলেছেন এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এরশাদ এটা বলে বিএনপির নেতাদের প্রস্তান পথ প্রশস্ত করেছেন। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, কারা যাচ্ছে জাতীয় পার্টিতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বেশি দূর যাবার প্রয়োজন নেই।

বিএনপি নির্বাচন করবে করবে ভাবের মধ্যেই, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেছে। বেগম জিয়ার গ্রেপ্তার আর বিএনপির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেক প্রার্থী হতাশ। বিশেষ করে রাজনীতি এবং এমপি হওয়াকে যারা ব্যবসা মনে করেন তাদের জন্য নির্বাচন বর্জন এবং অত্মহত্যা একই ব্যাপার।

এদের অনেকেই যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সকাল সন্ধ্যা যোগাযোগ করছেন, সেটা গোপন কোনো বিষয় নয়। এরশাদও এবার তিনশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই, বিএনপি পয়েন্ট অব নো রিটার্নে গেলে, এই প্রার্থীরা যে দলে দলে জাপায় যোগ দেবেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শুধু সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী না। এখনকার বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাই এরশাদের সান্নিধ্যেই নেতা হয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুনিরুল হক চৌধুরীসহ দীর্ঘ তালিকা। আন্দোলনের হতাশা থেকে মুক্তির জন্য এরা ক’জন এরশাদ টনিক নেবেন তা সময়ই বলে দেবে।

গতকাল সকালে দুই দিনের সফরে এসে রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির একটা বড় অংশ জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এরশাদ।

এরশাদ বলেন, কেউ যদি ইচ্ছে করে আমার পার্টিতে যোগ দিতে চায় তাহলে তাদের নেব না কেন। তারা যদি ভালো নেতা হন, যোগ্য প্রার্থী হন তাদের অবশ্যই দলে নেব এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেব।

তবে বিএনপির কোন কোন নেতা যোগদান করছেন সাংবাদিকরা তাদের নাম জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, এখন এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না। সময়ে সব জানতে পারবেন। এরশাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ে সংবিধানের আলোকে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অন্য কোনো দল অংশ না নিলেও জাতীয় পার্টি অংশ নেবে। সে প্রস্তুতি আমরা নিয়ে ফেলেছি। সংসদ নির্বাচনের জন্য দুটি দলই যথেষ্ট।

এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন