রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ১১:০৪:০৩ এএম

বাসের জানলায় মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন, আর চোখ খোলা হল না!

আন্তর্জাতিক | শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১০:০৭:৫৭ পিএম

শীতের সকাল, বাসের জানলা দরজা ছিল বন্ধ। বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাত্ই বিকট শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবশেষ। ঘুমন্ত অবস্থাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন অধিকাংশ যাত্রী। যারা জেগে ছিলেন, তারা অবশ্য বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু জানলা বন্ধ থাকায়, বাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি তারা। কার্যত দমবন্ধ হয়েই মৃত্যু হয় অনেকের। ৯ ঘণ্টা জলে ডুবে থাকার পর বাসের ভিতর আটকে থাকা যাত্রীদের বেঁচে থাকার আশা যে ক্ষীণ, তা প্রথম থেকেই আশঙ্কা করেছিলেন উদ্ধারকারীদের। ভৈরবের গর্ভ থেকে বাসটিকে চারটি লোহার ক্রেন দিয়ে কিছুটা অংশ তোলার পরই শিউরে উঠলেন উদ্ধারকারীরা।

দেখা যায়, বাসটির সামনের অংশ একেবারেই দুমড়ে মুছড়ে গিয়েছে। কাঁচের জানলা বন্ধ। চালকের আসনের পাশের সিটেই প্রথম দেহটি চোখে পড়ে। প্রথমে তার বা হাতের কনুই দেখতে পাওয়া যায়। দেখা যায়, মেরুন রঙের জামা পড়া এক ব্যক্তি মুখ থুবড়ে বাসের লোহার রডের ওপর পড়ে রয়েছে। তার দেহ উদ্ধারের জন্য ডুবুরি নামানো হয়। কিন্তু বাসটি দুমড়ে যাওয়ায়, তার দেহ আটকে যায় বাসের রডে।

শীতের সকালে বাসের বেশিরভাগ জানলাই বন্ধ ছিল। ফলে জানলা দিয়েও দেহ বার করে আনা সম্ভব হচ্ছিল না। উদ্ধারকারীরা সিদ্ধান্ত নেন, বাসটি জলের অনেকটা ওপরে তুলেই কাটার দিয়ে বাস কেটে দেহ উদ্ধার করা হবে। বাস কিছুটা তোলার পর চোখে পড়ে আরও মর্মান্তিক দৃশ্য..

দেখা যায়, জলভর্তি বাসের মধ্যে অনেক দেহই ভেসে রয়েছে। এক ব্যক্তির দেহ দেখতে পাওয়া যায়, যাকে দেখে স্পষ্টই বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন তিনি। কেউবা মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। একের পর এক দেহ দেখতে পাওয়া যায় বাইরে থেকেই। কারোর পা, কারোর হাত দেখতে পাওয়া যায়। দেহে রক্তের চিহ্ন নেই বটে, তবে দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে থাকায় দেহ ফুলে গিয়েছে বলে জানান উদ্ধারকারীরা।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মোট ৩৬ টি দেহ বার করে আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকটি মহিলার দেহ রয়েছে। দেহগুলিকে বার করে নৌকা, বোটে তুলে নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাসের মধ্যে আর কোনও দেহ নেই বলে সন্ধ্যা সওয়া ৬টা নাগাদ জানিয়ে দেয় এনডিআরএফ। তবে বাসের জানলা দিয়ে কিছু দেহ নদীর গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিনের আলো পড়ে গিয়েছে। এখন সার্চ লাইট লাগিয়ে উদ্ধারকাজ চলছে। নদীর দুধারে পরিজনদের ভিড়। বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ ছাপিয়ে যাচ্ছে দুকুল। মর্মান্তিক এই দৃশ্য শেষ কবে দেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মানুষ, তা স্মৃতি হাতড়েও মনে করতে পারছেন না অনেকে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন