বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ০৭:৩৬:০৭ এএম

বরিশালের ‘পুত্রবধূ’ ছিলেন শ্রীদেবী!

বিনোদন | রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৩:২৩:২৫ পিএম

হাজারো ভক্তের হৃদয়ে শোকের বোবা কান্না জাগিয়ে পরপারে চলে গেলেন এক সময়কার হার্টথ্রব বলিউড হিরোইন শ্রীদেবী। ৫৪ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ দুবাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন সৌন্দর্য্যদীপ্ত এই অভিনেত্রী। চলে যাবার কিছুদিন আগেও তিনি অভিনয় করেছেন সিরিয়াল ও বিজ্ঞাপনে, নেচেছেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চে, জিতেছেন অনেক পুরস্কার।

হিন্দি চলচ্চিত্রে ‘প্রথম নারী সুপারস্টার’ হিসেবে বিবেচিত শ্রীদেবী চলে যাবার আগে গুণগ্রাহীদের মাঝে অভিনেত্রী হিসেবে উপহার দিয়ে গেছেন মেয়ে জাহ্নবী কাপুরকে। নতুন এই হিরোইন ছাড়াও খুশি কাপুর কন্যা সন্তান রয়েছে শ্রীদেবী ও বনি কাপুর দম্পতির।

১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। কিন্তু আবেদনময়ী এই নায়িকা একসময় চেয়েছিলেন বাঙালি হিরো মিঠুন চক্রবর্তীর স্ত্রী হিসেবেই বাঁচবেন, মরবেন। আটের দশকে তার এবং ‘বিবাহিত’ মিঠুনের প্রেম আর গোপনে বিয়ের কাহিনী খবরের শিরোনামেও উঠে আসে।

বলিউড সাম্রাজ্যে ঢোকার আগে প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৬৯ সালে তামিল ছবি ‘থুনাইভান’-এ অভিনয় করেন শ্রীদেবী। তারপর বেশকিছু মালায়লাম, তেলেগু ও কন্নড় ছবিতে অভিনয় করে হিট নায়িকা হিসেবে সবার মনযোগ আকর্ষণ করেন। বলিউডে পা রাখেন ‘সোলভা শাওন’ ছবির মাধ্যমে। একে একে অভিনয় করেন বলিউডের মোট ৭০ হিন্দি ছবিতে।

অভিনয় জগতে পা রাখার পর শ্রীদেবী যখন গ্ল্যামার, নাচ ও অভিনয় গুণ দিয়ে পর্দা কাঁপাচ্ছিলেন, ‘জাগ উঠা ইনসান’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে তার প্রেমে পড়েন মিঠুন। মিঠুন চক্রবর্তী কিন্তু তখন যোগিতা বালির সঙ্গে বিবাহিত। শ্রীদেবী-মিঠুনের প্রেম এতটাই গভীর ছিল যে, ১৯৮৫ এ মন্দিরে গিয়ে চুপিচুপি বিয়েও সেরে ফেলেন দুজনে।

মিঠুন এর আগে তার স্ত্রী যোগিতার থেকে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। কিন্তু মিঠুন-শ্রীদেবীর সম্পর্কের কথা জানার পর যোগিতা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। যোগিতা তখন একটা সাক্ষাৎকারে এ-ও বলেন যে, ‘আমি শ্রীদেবীকে মিঠুনের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতেও রাজি আছি।’

মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই বনি কাপুর শ্রীদেবীর প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তার মনযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে থাকেন। শ্রীদেবীও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে উঁচু অবস্থানে যাবার জন্য বনীর সাথে মেলামেশা করতে থাকেন। এসময় বেশ নিরপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন মিঠুন। মিঠুনের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করার জন্য শ্রীদেবী নাকি বনি কাপুরের হাতে রাখীও বেঁধে দেন। এই ঘটনার কথা আবার বনির প্রথম স্ত্রী মোনা কাপুর একটা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

শ্রী ও মিঠুন একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসলেও হঠাৎ করেই একদিন মিঠুনের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। শ্রীদেবী বুঝতে পারেন, মিঠুন কোনওদিনই যোগিতা বালিকে ছাড়তে পারবেন না। তাই নিজেই মিঠুনের জীবন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বনির সাথে আনুষ্ঠানিক বিয়ের সাত মাস আগেই তিনি গর্ভবতী হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

হতে পারে এটাও ছিল মিঠুন-শ্রীদেবীর বিচ্ছেদের কারণ। কারণ যাই হোক, ১৯৮৮-তেই বাঙালির বধূ হিসেবে মরার সাধ ত্যাগ করেছিলেন বলিউডের শ্রীদেবী, যার আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়্যাপান।

বরিশালের ‘পুত্রবধূ’ ছিলেন শ্রীদেবী! এই বিচ্ছেদ না হলে বাঙালির বধূ হতেন পর্দা কাঁপানো উপমহাদেশ বিখ্যাত শ্রীদেবী। সে গর্বের কিছু হলেও ভাগ পেতো বাংলাদেশ, বিশেষ করে বরিশালের মানুষ। কারণ ‘মিঠুনদা’ যে বরিশালেরই ছেলে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন