বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১০:০৬:৩৭ এএম

রোহিঙ্গা ঈস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউরোপ

জাতীয় | সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৪২:০৯ এএম

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে ঘোষিত কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে প্রস্তাব পাস করতে আজ বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় ইইউ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের এ বৈঠকে বসবেন ইউরোপের ২৭ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বৈঠকে রোহিঙ্গা নিপীড়নে দায়ী মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একটি প্রস্তাব আসতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, তাদের নামের একটি তালিকা করতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধানকে অনুরোধ জানানো হবে এ বৈঠকে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, অবিলম্বে সেই প্রস্তাব সামনে আনতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেদারিকো মঘেরিনিকে বলবেন জোটের মন্ত্রীরা।

মিয়ানমারের ওপর নব্বইয়ের দশক থেকে আরোপিত ইইউর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা খুঁজে দেখতে বলা হবে তাকে। আজ ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২ ডিসেম্বর থেকে গ্রেফতার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে ইইউর ওই বিবৃতিতে।

গত বছর ২৫ আগস্ট রাখাইনে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাঘাঁটিতে হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সেনাবাহিনীর চরম নিপীড়নের বর্ণনা দিয়েছেন।

জাতিসংঘ ওই সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মিয়ানমারের মেজর জেনারেল মাউং মাউং সোয়েসহ ৫২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ডিসেম্বরে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিন নারী নোবেলজয়ী : মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী তিন নারী। এর মধ্যে শনিবার ঢাকায় আসা ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার গতকাল সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বিকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান।

গতকাল ঢাকা এসে পৌঁছানো ইরানের শিরিন এবাদি আজ ক্যাম্পে যাচ্ছেন। নোবেলজয়ী এ তিনজন নোবেল ওমেন্স ইনিশিয়েটিভের সদস্য। তারা শান্তি, ন্যায্যতা ও সমতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশ সফরে আসা এ তিন মহীয়সী নারী দুই দিন কক্সবাজারে নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে তাওয়াক্কুল কারমান ও মেরেইড ম্যাগুয়ার ক্যাম্পটির ইনচার্জের কার্যালয়ে মিয়ানমারে নির্যাতিত কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে নোবেলজয়ী নারীরা কুতুপালং মধুরছড়া এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানেও মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন।

দুই ক্যাম্পেই তারা মিয়ানমারে ধর্ষণের শিকার কয়েকজন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে ঘটা বীভৎসতার বর্ণনা শোনেন। এ সময় নারী সংস্থা ‘নারীপক্ষ’, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাপ্ত সূচি অনুসারে, কক্সবাজার ঘুরে এসে নোবেলজয়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাদের। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে নারীপক্ষ আয়োজিত রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তারা। সেখানে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন। সফর শেষ করে আগামী ১ মার্চ তারা নিজ নিজ দেশের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন