সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ ০৫:০৮:২২ এএম

তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় পার্টি

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০২:৩৩:৩২ এএম

প্রাদেশিক সরকার, নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রবর্তন— এই তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইশতেহার তৈরি করছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এ ছাড়াও জনকল্যাণ ও প্রযুক্তিনির্ভরতার বিষয়গুলো ইশতেহারে প্রাধান্য পাবে।

পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশে দলের ইশতেহার তৈরির কাজ চলছে। পার্টির মহাসচিব এবি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও প্রেসিডিয়ামের সদস্য, এরশাদের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভরায় ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এজন্য একটি পৃথক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এতে দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও রয়েছেন।

জানতে চাইলে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগাম নির্বাচন হতে পারে এমন আভাস ভেসে বেড়াচ্ছে। আর এজন্য আমরা সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে চাই। তিনি বলেন, নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন ইউএনএ জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে।

প্রার্থী যাচাই-বাছাই অনেক দূর এগিয়েছে। তৃণমূল থেকেও মতামত নেওয়া হবে। আগামীতে বোর্ড বসিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোটের রাজনীতির সংস্কৃতিকেও মাথায় রাখা হচ্ছে। ইশতেহার কমিটির সঙ্গে যুক্ত এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি নিজেদের শক্তি জানান দিতে নির্বাচনের আগেভাগেই ইশতেহার ঘোষণা করতে চায়।

শান্তির জন্য পরিবর্তন-পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি এ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে— ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার মাধ্যমে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা পুনঃস্থাপন, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণমুক্ত করা, মাদক নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদানসহ আট থেকে ১০টি বিষয় থাকছে ইশতেহারে।

জাপা সূত্র জানায়, নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনেই প্রার্থী প্রস্তুতি রাখছে জাপা। জাতীয় নির্বাচনে জোটের শরিক দলগুলোকে মাথাপিছু দুই থেকে তিনটি আসনে সমর্থন দেওয়ার চিন্তা আছে দলটির। এদিকে পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের জন্মস্থান রংপুর সিটি করপোরেশনে বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার পর এবার দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের জন্মস্থান বরিশাল সিটি নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে জাতীয় পার্টির মেয়র পদে তিনজন প্রার্থীকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এরা হলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, চিত্রতারকা সোহেল রানা এবং পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও শিল্পপতি ইকবাল হোসেন তাপস। এ তিনজনের যে কোনো একজনকে তিনি মেয়র পদে মনোনয়ন দিতে পারেন।

পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, এবারের জাপার ইশতেহারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়নের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ ক্ষমতায় গেলে মানুষের কল্যাণে যা যা করা প্রয়োজন সে বিষয় মাথায় রেখেই ইশতেহার প্রণয়নের কাজ চলছে।

জানা যায়, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে জাপা। এদিকে দলীয় দায়িত্বশীল নেতাদের তালিকা ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীকে ডেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলছেন পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে। তবে আগামী নির্বাচনে জাপা থেকে বেশকিছু নতুন মুখ আসারও সম্ভাবনা রয়েছে।

জাপার একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সম্প্রতি জেলা নেতাদের যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে চিঠি দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী জেলা-উপজেলা নেতারা বৈঠক করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠান। সব আসনে তিন তিনজন প্রার্থীর নামও রয়েছে। জেলা থেকে পাঠানো তালিকা ধরে এরশাদ নিজে থেকেই প্রার্থীদের ডেকে কথা বলছেন। -বিডি প্রতিদিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন