মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ০৬:৪০:৪৭ এএম

ক্যারিয়ারের সেরা ১৪টি মুহূর্তের কথা নিজেই প্রকাশ করলেন মেসি

খেলাধুলা | বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১২:৩৩:২৩ এএম

ফুটবল বিশ্বে সময়ের সবচেয়ে বড় তারকা। কেবল সময়ের বললে হয়তো কম বলা হবে, অনেকেই তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে ফেলেন। ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সবকিছুই অর্জন করেছেন এ আর্জেন্টাইন। তবে আক্ষেপ একটাই, সেটাও বেশ বড়সড় আক্ষেপ। ঝুলিতে নেই কোন বিশ্বকাপ।

সবশেষ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নিয়ে গেলেও সোনার ওই কাপটাকে ছুঁয়ে দেখতে পারেননি। রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে টেনেহিচড়ে উতরেছে আর্জেন্টিনা। তাও ওই মেসির কল্যাণেই। তাই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগটা রাশিয়াতেও থাকছে। সম্প্রতি নিজের বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারের সেরা ১৪টি মুহূর্তের কথা নিজেই প্রকাশ করলেন মেসি। দেখে নেয়া যাক প্রথম সাতটি।

১. আর্জেন্টিনা বনাম বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা (২-১), বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, ১৫ জুন, ২০১৪।

'আমি আট বছর অপেক্ষা করেছি বিশ্বকাপে আমার দ্বিতীয় গোল পাবার জন্য। আমরা একটি অসাধারণ টুর্নামেন্ট চেয়েছিলাম এবং বসনিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমি আমাদের দ্বিতীয় গোলটি করেছিলাম।'

২. এসপানিওল বনাম বার্সেলোনা (০-১), লা লিগা, ১৬ অক্টোবর, ২০০৪।

'২০০৪ সালে আমাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিয়লের বিপক্ষে আমি ডেকোর বদলি হিসেবে নেমেছিলাম। আমার অভিষেক হচ্ছিলো, মাঠে নামার সময় আমি কিছুটা বিচলিত ছিলাম। এটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটার জন্য আমি দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম এজন্য সম্ভবত আমি কিছুটা অধৈর্য ছিলাম।'

৩. বার্সেলোনা বনাম বায়ার লেভারকুসেন (৭-১), চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ ষোল, ৭ মার্চ, ২০১২।

'কি অবিশ্বাস্য রাত (ছিলো সেটি)! আমার গোলগুলোকে একটার সঙ্গে আরেকটাকে তুলনা করতে পারবো না। সত্যি কথা বলতে, আমি বিশ্বাস করি না যে, একটা স্ট্রাইকের চেয়ে অন্যটাকে ভালো বলা যায়। আমার পাঁচটি গোল করার সৌভাগ্য হয়েছিলো আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দল খুবই দাপটা দেখিয়ে জিতেছিলো। তখন অনুভবই করিনি যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় আমি।'

৪. নাইজেরিয়া বনাম আর্জেন্টিনা (০-১), অলিম্পিক ফাইনাল, ২৩ আগস্ট ২০০৮।

'অলিম্পিকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা শুধু দেশকে মেডেল এনে দেয়ার জন্যই নয়, এতো বড় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য এবং অলিম্পিক ভিলেজে ভিন্ন ভিন্ন ফিল্ডের অ্যাথলেটদের সঙ্গে থাকার জন্য। এটা ছিলো অবিশ্বাস্য- আমাদের জন্য একটা পরিপূর্ণ টুর্নামেন্ট। হ্যাঁ, আমরা সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতেছিলাম, তারও দারুণ টিম ছিলো। তবে আমরা নেদারল্যান্ড এবং নাইজেরিয়াকে টপকেছিলাম।'

৫. বার্সেলোনা বনাম সেভিয়া (৫-১), লা লিগা, ২২ নভেম্বর ২০১৪।

'লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াটা দারুণ একটা অনুভূতি। এই লিগের ইতিহাসে অসাধারণ সব ফুটবলার খেলেছে এবং তারা অনেক কিছু অর্জন করেছে। আমি এটা উদযাপনের জন্য বিশেষ কোন পরিকল্পনা করি নাই। আমি ভাবিইনি যে একটা গোল করার পর কি ঘটবে। উদযাপনটা স্বাভাবিকভাবেই এসেছিলো, মাঠে খেলার মতোই।'

৬. বার্সেলোনা বনাম বায়ার্ন মিউনিখ (৩-০), চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনাল, ৬ মে ২০১৫।

'আমি বোয়েটাংকে (জেরোমি) তটস্থ রেখেছিলাম। আমি তাকে গোলের কাছাকাছি রাখতে চেয়েছিলাম। অন্য ম্যাচগুলোর মতো ছিলো যে, আমি বল পাচ্ছিলাম এবং প্রতপক্ষের খেলোয়াড়রা আমার সমনে ছিলো। লুইস এনরিকের মতো অসাধারণ একজন কোচ ছিলো আমারদের যে এমন জটিল ম্যাচ জিততে আমাদের সাহায্য করেছিলো। আমরা সত্যিই একটাকে খেলার মুডে নিয়েছিলাম এবং আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলেছিলাম, তারপরেও আমরা শান্ত এবং সুস্থির ছিলাম।'

৭. বার্সেলোনা বনাম আলবেসিতা (২-০), লা লিগা, ১ মে ২০০৫।

'বার্সায় আমার প্রথম গোল! আমি ক্যাম্প ন্যুতে ফুটবল উপভোগ করছিলাম এবং মূল দলের অসাধারণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। আমি সত্যিই গোল করার কথা ভাবিই নাই তবে আমি জানতাম, গোলের সুযোগ পেলে আমি বিচলিত হবো না।

সবকিছু খুব দ্রুত হয়ে গেলো। রোনালদিনহো ডিফেন্সের উপর দিয়ে বলটা ফ্লিক করলো এবং আমি সেটা গোলরক্ষকের উপর দিয়ে চিপ করলাম। এটা সত্যিই দারুণ মুহূর্ত ছিলো। আমার নতুন সতীর্থরা আমার সঙ্গে উদযাপন করলো।'

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন