মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ০৪:৩২:৪৯ এএম

আমরা কি সরকারি দল না বিরোধী দল : সংসদে প্রশ্ন রওশন এরশাদের

জাতীয় | বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:৫০:২৮ এএম

জাতীয় পার্টি সম্মানের সঙ্গে নেই। কোথাও গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা কি সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে আছি? গতকাল সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম মন্ত্রীসভা থেকে আমাদের পার্টির সদস্যদের প্রত্যাহার করুন। কিন্তু সেটা হয়নি। এভাবে টানাটানি করে বিরোধী দল হওয়া যায় না।

এসময় সংসদে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে বাইরে অনেক কথা হয়। আপনি বলেন বিরোধী দলের দরকার নেই। আমাদের সবাইকে মন্ত্রী বানাইয়া দেন। আমরা বাইরে গেলে নানা কথা হয়। বলে আপনারা কোথায় আছেন সরকারে, না বিরোধী দলে। আমরা বলতে পারি না। কাজেই এটা যদি করতেন তাহলে জাতীয় পার্টি বেঁচে যেত। জাতীয় পার্টি আজ সম্মানের সঙ্গে থাকতে পারতো। জাতীয় পার্টি এখন সন্মানের সঙ্গে নেই।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আরো এক বছর আছে, দেখেন সেটা। আপনি নির্দেশ দিলে মানবে না কে? আপনি তো দিলেন না? এসময় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায় আমি তো বলেছিলাম। রওশন এরশাদ বলেন, না দেন নাই, দেন নাই, না. না.. না।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোথাও কথা বলতে পারি না। সাংবাদিকরা ধরলেই বলেন আপনারা কোথায় আছেন। কোথাও কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা সরকারি দল না বিরোধী দল। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি বলতে পারেন বিরোধী দল আছে? আমরাও বলতে পারি না।

রওশন এরশাদ বলেন, পদ্মা সেতু শুরু হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখনও কাজ চলছে। এখন সেখানে বালু উত্তোলন চলছে। পদ্মা সেতুর আশপাশে অনেকে জায়গা দখল করে হোটেল-মোটেল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো তৈরির অনুমতি কে দিয়েছে? কারা দিয়েছে?। এসব হলে পদ্মা সেতু রিস্কের মধ্যে পড়ে যাবে। এগুলো দেখা দরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি সবকিছু মায়ের মমতায় সমাধান করে থাকেন। এখন চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা যে আন্দোলন করছেন তা সমাধান করে ফেলা উচিত। এদিকে ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দণ্ড দিয়েছে।

তবে আদালতের এই রায়কে রাজনৈতিক কালার দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বিএনপি। খালেদা জিয়ারা পরীক্ষা না দিয়েই নির্বাচনে পাস করতে চান। নির্বাচনে পরীক্ষা দেবেন না কিন্তু উনাদের (বিএনপি) পাস করে দিতে হবে, এমন মামা বাড়ির আবদার দেশবাসী গ্রহণ করবে না। দেশের জনগণ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তাই যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন কোন লাভ হবে না।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন