সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৩:০৩:৩৯ পিএম

মুক্তিযোদ্ধা ও সঙ্গীতযোদ্ধা আজম খানের জন্মদিন আজ

বিনোদন | বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৯:৪৩:৫৪ এএম

একজন গায়ক, মুক্তিযুদ্ধা, জীবন সংগ্রামের এক নির্লোভ সৈনিক। তিনি ভক্তদের কাছে পরিচিত ছিলেন পপ গুরু আজম খান নামে। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান।

তার হাত ধরেই বাংলা গানে পাশ্চাত্যের ঢং লেগেছিল, বিশ্ব সঙ্গীতে বাংলা গান খুঁজে পেয়েছিল নতুন মাত্রার আশ্রয়। তাই তাকে বাংলাদেশের পপ সঙ্গীতের অগ্রদূত হিসেবে ‘পপগুরু’ বলা হয়। বুধবার এই ব্যান্ডগুরু আজম খানের ৬৮তম জন্মদিন।

তিনি দেশীয় ফোক ফিউশনের সঙ্গে প্রাশ্চাত্যের যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে বাংলা গানের এক নতুন ধারা তৈরি করেন। অনেকে তাকে বাংলাদেশের বব মার্লি বা বব ডেলান বলে সম্মানিত করে থাকেন।

মাত্র একুশ বছর বয়সে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া এই গায়কের জন্মদিনে তার জন্য শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা। তার বড় ভাই আলম খান তার কথা স্মরণ করে বলেন, ওর বড় পরিচয় ও মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন তিনি ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসঙ্গীত প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে, তিনি হেঁটে আগরতলা চলে যান। আগরতলার পথে সঙ্গী হন তার দুই বন্ধু। এসময় তার লক্ষ্য ছিল সেক্টর ২ এ খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধে যোগদান করা।

এরপর ঢাকায় গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটা সেকশনের ইনচার্জ। আর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল খালেদ মোশাররফ। ঢাকায় তিনি সেকশান কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নেন।

এই যুদ্ধে তিনি তার বাম কানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। যা পরবর্তীতে তার শ্রবণক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটায়। আজম খান তার সঙ্গীদের নিয়ে পুরোপুরি ঢাকায় প্রবেশ করেন ১৯৭১-এর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। এর আগে তারা মাদারটেকের কাছে ত্রিমোহনীতে সংগঠিত যুদ্ধে পাক সেনাদের পরাজিত করেন।

এই প্রতিভাবান সাহসী, নিরহঙ্কার, গুনী মুক্তিযোদ্ধা, সঙ্গীত শিল্পী ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন যুদ্ধ করে পরাজিত হন। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবর স্থানে সমাহিত করা হয়। পারিবারিক জীবনে তিনি ২ কন্যা ইমা এবং রিমা ও পুত্র হৃদয়ের জনক।

তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমি যারে চাইরে’, ‘রেল লাইনের ওই বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘একসিডেন্ট’, ‘অনামিকা’, ‘অভিমানী’, ‘আসি আসি বলে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘পাপড়ি’, ‘বাধা দিও না’, ‘যে মেয়ে চোখে দেখে না’ ইত্যাদি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন