সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ ১০:৪৩:২১ এএম

উত্তর কোরিয়া থেকে আসছে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র!

আন্তর্জাতিক | বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০১:০৪:৪২ পিএম

সিরিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো হামলায় ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্রের সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া। সম্প্রতি জাতিসংঘের কয়েকজন গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এ অভিযোগ আনে। শুধু রাসায়নিক অস্ত্র-ই নয়, অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের উপকরণও দেশটি সরবরাহ করে আসছে।

এদিকে রুশ বাহিনী ও আসাদ বাহিনীকে ২০১৬ সাল থেকে অস্ত্র সরবরাহ করছে উত্তর কোরিয়া, এমন অভিযোগ তুলে মার্কিন বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। উত্তর কোরিয়ার বেশ কয়েকজন ক্ষেপনাস্ত্র গবেষককে সিরিয়ার অস্ত্র তৈরির গুদামগুলোতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ আনা হয় ওইসব প্রতিবেদনে।

সম্প্রতি সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পরই মার্কিন গণমাধ্যমগুলো এমন অভিযোগ এনেছে। এক শিশু অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়ার দৃশ্য বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।

রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপকরণগুলোর মধ্যে আছে, উচ্চ-তাপ উৎপাদনকারী রাসায়নিক উপাদান, এসিড প্রতিরোধী টাইলস এবং থার্মোমিটার। জানা গেছে, রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির গুদামগুলোতে ওই টাইলসগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা একটি জাহাজ কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালের প্রথমদিক পর্যন্ত ৫টিরও বেশি জাহাজে করে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপকরণ সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছরে কয়েক ডজন জাহাজ সিরিয়াতে পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া, প্রতিবেদনে এমন অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিরিয়ার সরকারি সংস্থা ‘দ্য সায়েন্টিফিক স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ সেন্টার’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অর্থ লেনদেনসহ উপকরণ আমদানির সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে তারা উত্তর কোরিয়াকে অস্ত্র-উপকরণ সরবরাহের বিনিময়ে অর্থ দিয়ে আসছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি জাতিসংঘের দুইটি সদস্য রাষ্ট্র সিরিয়াগামী দুইটি জাহাজ আটকে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আটক ওই জাহাজগুলোতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ছিল। আর সেই অস্ত্রের সরবরাহকারী ছিল উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিখ বলেন, আমি মনে করি প্রত্যেকটি দেশ জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় কয়েকটি দেশ তা পালন করছে না।

এদিকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ বলেন, সিরিয়ায় কেবল উত্তর কোরিয়ার অ্যাথলেটস, কোচ ও খেলোয়াড়রা অবস্থান করছে। এর আগে ২০১৩ সালে সিরিয়ার ঘৌটাতে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় শতশত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় জাতিসংঘের সঙ্গে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে সম্মত হয় আসাদ। তবে চুক্তি করার পরপরই তা লঙ্ঘন করেন আসাদ। ২০১৩ সাল থেকেই আসাদ রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার খান শেইখোন ও ইদলিবে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে সারিন গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওইসময় সরকারি বাহিনীর হামলায় কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। -সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল-জাজিরা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন