রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ ০২:০৫:০৮ এএম

‘থাকো বুনডি তুমি আর আইসো না’

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮ | ১২:৫০:৫৮ এএম

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টার নাম উল্লেখ না করে তার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে ১৯তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এই সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘তিনি উপদেষ্টা হওয়ার জন্য আমাদের কাছে অনেকবার ধর্ণা দিয়েছিলেন। আমরা যখন পার্টি থেকে উপদেষ্টার নাম পাঠাই, তখন তার নামটাও পাঠিয়েছিলাম। উপদেষ্টা হওয়ার পর সবার আগে আমাকেই গ্রেফতার করা হলো। আর, আমার বিরুদ্ধে মামলাটা দেওয়া হলো। আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম, দেশে ফিরে আসবো, তিনি নিজে আমাকে ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, থাকো বুনডি তুমি আর আইসো না। বরিশাল-ফরিদপুরে ছোট বোনকে বুনডি বলে ডাকে। সঙ্গে একজন মেজর জেনারেল ছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক ভদ্রলোক এখন দেখি, অনেক বড় বড় কথা বলেন। বেশ জ্ঞানী-গুণী। আমি পার্লামেন্টে সার্কাসের এক গাধার গল্প বলায় তিনি বেশ দুঃখ পেয়েছেন। আমি দেখলাম, অনেক সময় টেলিভিশন টক-শোতে তিনি বলেন, তাদের মতো শিক্ষিত লোকদের নাকি গাধা বলা হয়েছে। আমি তো একটা গল্প বলেছি। এতে কারও যদি আঁতে লাগে, আর সে যদি নিজেকে গাধা মনে করে, আমার কিছু করার নাই। সেই ভদ্রলোকও খুনি হুদা আর পাশাকে নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি নামে একটি রাজনৈতিক দলও করেছিল। মঞ্জু ভাই (পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ভালো বলতে পারবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে লোক খুনিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন, তাদের পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন, সেই টাকা কিসের টাকা? ইত্তেফাকের টাকা? ইত্তেফাকটা কার? হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অর্থে ওই ইত্তেফাক আওয়ামী লীগের একটা পত্রিকা। যেটা অবশ্য পরে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের আর কোনও অধিকার থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ইত্তেফাকের অর্জিত সম্পদ দিয়েই ভদ্রলোক বিদেশে ব্যারিস্টারিও পড়ে এসেছেন, সাহেব হয়ে গেছেন। ওই ইত্তেফাকের টাকা দিয়েই তাদের জৌলুস। ইত্তেফাকের টাকা দিয়েই তারা বড়লোক হয়েছেন, অর্থশালী হয়েছেন। এখন কেউ রিকশায় চড়লে হীন চোখে দেখেন। কিন্তু, টাকাটা সোহরাওয়ার্দী সাহেবের। তার ছেলেটা কী অবস্থায় আছে; সে খবরটাও রাখেন না। ইত্তেফাক পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর অবদান রয়েছে; সে কথা ভুলে গিয়েছিলেন। তার মুখে এখন গণতন্ত্রের সবক শুনতে হয়। বাংলাদেশের জন্য এটাই হলো দুর্ভাগ্যের।’

এর আগে প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সেলিনা বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী ও রাজাকারদের কোনো সম্পত্তি স্বাধীন দেশে থাকতে পারে না, রাখার কোনো অধিকার নেই। বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের নামে-বেনামে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রথম ধাপ হিসেবে তাদের সম্পত্তি চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিহ্নিত করার পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন