বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:৩৭:৩৯ পিএম

সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি দিল বিএনপি

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮ | ০১:০৮:৫৪ এএম

সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের ওপর 'চাপ' সৃষ্টি করতে জাতিসংঘের 'সহায়তা' চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে 'মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে তাকে এবং বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার 'ষড়যন্ত্র' করছে বলেও অভিযোগ করেছে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দলটি।

বুধবার ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া শেপুর মাধ্যমে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুটেরেস বরাবর এ চিঠি পাঠায় বিএনপি। একইসঙ্গে ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টের বিশেষ দূতের কাছেও একই চিঠি দিয়েছে দলটি।

বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের নেতাদের মাধ্যমে এসব চিঠি পাঠানো হয়। অবশ্য চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলতে নারাজ বিএনপি নীতিনির্ধারকরা। তবে দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র 'অনুপস্থিত' দাবি করে গণতন্ত্র 'পুনঃপ্রতিষ্ঠা'র ব্যাপারে 'ভূমিকা' রাখতে জাতিসংঘকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে চলমান সংকট নিরসনে সরকারকে প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে 'চাপ' দেওয়া এবং একজন প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি 'জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিচ্ছে বিএনপি' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

সূত্র জানায়, চিঠিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধাসহ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আন্তর্জাতিক উইংয়ের আহ্বায়ক ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরী এবং সদস্যসচিব ড. আসাদুজ্জামান রিপন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ক্ষমতাসীন দল আবারও একটি 'একতরফা' নির্বাচন করার নানা নীল-নকশা প্রণয়ন করেছে। সারাবিশ্বের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র 'পুনরুদ্ধারে' ভূমিকা রাখতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে দেশবাসী।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত। তারপরও দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন তারা।

সূত্র জানায়, চিঠিতে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনের আগে বর্তমান 'বিতর্কিত' সংসদ ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতেও পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করেছে বিএনপি। পাশাপাশি ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টিরও অনুরোধ করেছে দলটি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘের মধ্যস্থতা চেয়েছিল বিএনপি। ওই সময় বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলেন। সমঝোতা করতে জাতিসংঘের মহাসচিবের 'বিশেষ দূত' ও সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ঢাকায় এসেছিলেন, বৈঠক করেছিলেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানী নেতাদের নিয়ে।

ওই বৈঠকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিএনপির দাবি মানেনি আওয়ামী লীগ। সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান তারানকো। বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে সংবিধানের ধারাবাতিকতা রক্ষায় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ। 'একতরফা' নির্বাচনের একবছর পূর্তিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি আবারও টানা অবরোধের কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ওইসময় রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দুই নেত্রীকে চিঠি দেন এবং আবারও তারানকো মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেন। তবে জাতিসংঘের ওই উদ্যোগও ভেস্তে যায়।

সূত্রঃ সমকাল

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন