সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ০৩:২০:৪৬ পিএম

‘তোর মতো পুলিশের চাকরি যে কোনো সময় খেতে পারি’

জেলার খবর | কুষ্টিয়া | বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮ | ১২:১০:৩৯ পিএম

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে হামলা চালিয়ে এক চিকিৎসক ও পুলিশকে মারধর করেছে রোগীর স্বজনরা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ হামলায় জড়িত সন্দেহে দু'জনকে আটক করেছে। মূল অভিযুক্তকে এখনও আটক করা যায়নি।

এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মূল অভিযুক্ত শাহজামান বিন শহীদ (অন্তর) কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্য হামলাকারীরা অন্তর অনুসারী।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকাল ১১টার দিকে শহরের বশির নামে এক রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। দুপুর ২টার দিকে রোগীটি মারা যায়। রোগীর কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, অক্সিজেন চেয়েও পাওয়া যায়নি, এ জন্য রোগীটি মারা গেছে। এরপরই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ইশরাত হুমায়রা নীলা বলেন, ৬ থেকে ৮ জন যুবক কক্ষে প্রবেশ করে গালাগাল ও আপত্তিকর কথা বলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক যুবক ডান হাত ধরে মুচড়ে ধরে। এ সময় হাত ছাড়াতে গেলে সুন্দর চেহারা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে তারা কক্ষের জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে সেখানে যান হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রাশেদুল ইসলাম। তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

রাশেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের একজন হুমকি দিয়ে বলে তোর মতো পুলিশের চাকরি যে কোনো সময় খেতে পারি।

পুলিশ সদস্যরা জানান, ভাংচুরের পর যাওয়ার সময় এক যুবক পকেট থেকে ভিজিটিং কার্ড ছুড়ে দিয়ে বলে, 'এই দেখ চিনে রাখ, এটা তোর বাপজান।'

পরে সেখানে যান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফকে জানানো হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ভিজিটিং কার্ডটি উদ্ধার করা হয়েছে। দু'জনকে আটক করা হয়েছে। অন্তরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি নুরুন্নবী হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হাসপাতালে দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করবেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তাকে ধরতেও পুলিশকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সূত্র: সমকাল

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন