শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:০৮:০২ পিএম

‘বেলুনে বীর্য থাক বা না থাক, হোলি কি মহিলাদের হেনস্তার লাইসেন্স দেয়?’

আন্তর্জাতিক | বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮ | ০৫:৩৪:০৬ পিএম

হোলির অছিলায় দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজের ছাত্রীদের দিকে ধেয়ে এসেছিল বীর্যভরা বেলুন৷ বেলুনে রং ভরে অন্যের দিকে ছুড়ে দেওয়ার রীতি বহুদিনের৷ বিশেষত অঙ্গ স্পর্শ না করে মহিলাদের দিকে এভাবেই রং ছুড়ে দেন যুবকরা৷ এবার রঙের বদলে বেলুনে ভরা ছিল বীর্য৷ তা নিয়েই ছি ছি গোটা দেশে৷ তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, একটা বেলুন রঙে ভরা সহজ৷ কিন্তু তা বীর্য দিয়ে কীভাবে ভরা যাবে? তা কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত কথা? এবার এ সব নিয়েই মুখ খুললেন গুরমেহর কৌর৷

পাকিস্তান নয়, যুদ্ধই আমার বাবাকে মেরেছে৷ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিল মেয়েটা৷ বার্তা যুদ্ধবিরোধী৷ যদিও তাতে পাকিস্তানকে তোল্লাই দেওয়া হচ্ছে, এ অভিযোগে সরব হয়েছিলেন দেশবাসী৷ তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন গুরমেহর৷ যদিও নুয়ে পড়েননি৷ বরং নিজের ভাবনা ও তা প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অনড় ছিলেন৷ সম্প্রতি এ বিষয়ে তাঁর বইও প্রকাশিত হয়েছে৷ একটি বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধে এবার হোলির এই প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন এই তরুণী সমাজকর্মী৷ তাঁর দাবি, বেলুনে বীর্য ভরে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে কলেজ ছাত্রীদের দিকে৷ সে কাজটাই তো নিন্দনীয়৷ উলটে আলোচনা হচ্ছে, বীর্য দিয়ে বেলুন ভরে তোলা সম্ভব কিনা তা নিয়ে৷ তাঁর মতে, এই অপ্রাসঙ্গিক আলোচনার পরিবর্তে বরং নজর দেওয়া উচিত অন্যদিকে৷ এই যে মজা করার অছিলায় কোনও মহিলার দিকে বেলুন ভরা রং ছুড়ে দেওয়া তা তো অস্বস্তির কারণ হতে পারে৷ এবং সেক্ষেত্রে পুরুষরা অনুমতিও নেয় না৷

বুরা না মানো হোলি বলে এই কাজ করে চলে পুরুষরা৷ তাঁর মতে এই প্রথাই বা কতখানি শিষ্ট৷ তবে কি হোলি আসলে মহিলাদের হেনস্তা করার ফ্রি পাস৷ প্রশ্ন তুলেছেন গুরমেহর৷ বস্তুত এ প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন৷ দোলে রং মাখানোর অছিলায় মহিলাদের হেনস্তা করার ঘটনা আকছারই ঘটে৷ প্রতিবছরই পুলিশের কাছে এরকম কিছু অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ বুরা না মানো- এই কথার মধ্যেই যেন বদমাইশি করার লাইসেন্স দেওয়া থাকে৷ অন্তত অনেকে সেরকমই ধরে নেন৷ গুরমেহরের মতে, তাই যদি হয়, তাহলে অশুভকে নাশ করে যে উৎসবের সূচনা, তা তো আর এক অশুভকে প্রশ্রয় দিচ্ছে৷ গুরমেহরের ভাবনায় শামিল নেটিজেনদের একাংশও৷

তথ্যসূত্র: সংবাদপ্রতিদিন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন